সুন্দরবনের ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনীর প্রধানসহ ২৭ বনদস্যুর কোস্টগার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ


বাগেরহাট প্রতিনিধি, নূরুল হুদা প্রকাশের সময় : জুলাই ১৪, ২০২৬, ৬:৫৯ অপরাহ্ণ
সুন্দরবনের ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনীর প্রধানসহ ২৭ বনদস্যুর কোস্টগার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ

সুন্দরবনের আলোচিত বনদস্যু ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনীর প্রধানসহ ২৭ সদস্য কোস্টগার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টায় মোংলার দিগরাজ এলাকায় বাংলাদেশ কোস্টগার্ড পশ্চিম জোনের প্রধান কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে তারা আত্মসমর্পণ করেন।

এ সময় আত্মসমর্পণকারী দস্যুরা তাদের ব্যবহৃত বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ কোস্টগার্ড পশ্চিম জোনের জোনাল কমান্ডার ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ মেসবাউল ইসলামের কাছে জমা দেন।

আত্মসমর্পণকারী ২৭ জনের মধ্যে ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনীর প্রধান জাহাঙ্গীর শেখ (৪৫) ছাড়াও খুলনা, বাগেরহাট ও পিরোজপুর জেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা রয়েছেন। তারা দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবনে ডাকাতি, জেলে ও বাওয়ালিদের অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়সহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন বলে কোস্টগার্ড জানিয়েছে।

আত্মসমর্পণের সময় তারা কোস্টগার্ডের কাছে জমা দেন ৩টি বিদেশি বন্দুক, ১টি এইট শুটার, ১টি ফোর শুটার, ৫টি দেশীয় একনলা বন্দুক, ১৫টি দেশীয় পাইপগান, ২টি চায়না পাইপগান, ৩৪০ রাউন্ড তাজা কার্তুজ এবং ৫৫ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ।

কোস্টগার্ড পশ্চিম জোনের জোনাল কমান্ডার ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ মেসবাউল ইসলাম জানান, সুন্দরবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের নেতৃত্বে ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ এবং ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ নামে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এসব অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ ৪৫ জন বনদস্যুকে আটক করা হয়েছে। পাশাপাশি দস্যুদের হাতে জিম্মি থাকা ৪২ জনকে উদ্ধার করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

তিনি বলেন, কোস্টগার্ডের ধারাবাহিক অভিযানের কারণে সুন্দরবনের দস্যুরা চাপে পড়ে আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত সোমবার (১৩ জুলাই) বিকেলে মোংলা থানাধীন সুন্দরবনের চরপুটিয়া খাল সংলগ্ন এলাকায় ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনীর প্রধানসহ ২৭ জন সক্রিয় সদস্য আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্ত নেয়। পরবর্তীতে আইনি প্রক্রিয়া শেষে মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের অস্ত্র গ্রহণ করা হয়।

ক্যাপ্টেন মেসবাউল ইসলাম আরও বলেন, আত্মসমর্পণকারীদের আদালতে সোপর্দ করা হবে। তারা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে চাইলে কোস্টগার্ডের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে পুনর্বাসনের সুযোগ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। তবে যারা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাবে, তাদের বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি অনুযায়ী কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কোস্টগার্ড সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরে এর আগে ছোট সুমন বাহিনীর ৭ সদস্য এবং বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর ৩ সদস্য অস্ত্রসহ আত্মসমর্পণ করেন। এ নিয়ে চলতি বছরে মোট ৩৭ জন বনদস্যু আত্মসমর্পণ করেছেন।

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত ঘোষণা করা হয়েছিল। এর আগে ২০১৬ সাল থেকে ২০১৮ সালের নভেম্বর পর্যন্ত সুন্দরবনের ৩২টি বাহিনীর ৩২৮ জন দস্যু বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ আত্মসমর্পণ করেছিলেন।