
ভারতের মেঘালয় থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল এবং টানা ভারী বর্ষণের প্রভাবে সুনামগঞ্জের নদ-নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। বিশেষ করে সুরমা ও যাদুকাটা নদীর পানি ঊর্ধ্বমুখী থাকায় আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টাকে গুরুত্বপূর্ণ সময় হিসেবে দেখছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে জেলার নিম্নাঞ্চলে বন্যা দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।
পাউবো সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকাল ৯টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় সুনামগঞ্জ শহরের ষোলঘর পয়েন্টে সুরমা নদীর পানির স্তর ৩০ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সময়ে ছাতক পয়েন্টে ৩৫ সেন্টিমিটার এবং সীমান্তবর্তী শক্তিয়ারখলা পয়েন্টে ৮ সেন্টিমিটার পানি বেড়েছে। পাশাপাশি যাদুকাটা নদীর পানিও ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত জেলার সব পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রেই নদীর পানি বিপৎসীমার নিচে রয়েছে।
এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় সুনামগঞ্জে ১০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী আগামী কয়েক দিনও বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। এর সঙ্গে উজান থেকে আরও পাহাড়ি ঢল নেমে এলে নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
অবিরাম বৃষ্টির কারণে জেলার নিম্নাঞ্চলে জনজীবনে এরই মধ্যে প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। দিনমজুর, রিকশাচালক, জেলে ও নিম্ন আয়ের মানুষের কর্মসংস্থান ব্যাহত হচ্ছে। সম্ভাব্য বন্যার আশঙ্কায় অনেক পরিবার খাদ্য, পশুখাদ্য ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী সংরক্ষণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী ইমদাদুল হক জানান, আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে নদ-নদীর পানি আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। এই ধারা অব্যাহত থাকলে জেলার নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তিনি বলেন, নদ-নদীর পানির স্তর সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
হাওর বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোর আকস্মিক বন্যার অভিজ্ঞতা বিবেচনায় এখন থেকেই আগাম প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি। তারা নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের আতঙ্কিত না হয়ে সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ, নিরাপদ আশ্রয়ের পরিকল্পনা এবং জরুরি খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংরক্ষণের পরামর্শ দিয়েছেন।
এদিকে জেলা প্রশাসন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। নদ-নদীর পানি আরও বাড়লে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রস্তুত থাকতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন :