
২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে কর্মস্থলে অনুপস্থিত ও পলাতক থাকা ৫৭ জন পুলিশ কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এরই অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) তিন পুলিশ কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তারা হলেন—৩৩তম বিসিএসের পুলিশ ক্যাডারের মিশু বিশ্বাস, জুয়েল চাকমা এবং ৩৬তম বিসিএসের মাহমুদুল হাসান।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (শৃঙ্খলা) কাজী সাইফুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে পুলিশের অন্তত ৮২ জন ক্যাডার কর্মকর্তা পলাতক রয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ৫৭ জন কর্মকর্তার তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে তালিকাভুক্ত অন্য কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বরখাস্তের তালিকায় পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তারা রয়েছেন। তাদের মধ্যে অতিরিক্ত কমিশনার, যুগ্ম পুলিশ কমিশনার, ডিআইজি, অতিরিক্ত ডিআইজি, পুলিশ সুপার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, সহকারী পুলিশ সুপার ও সহকারী কমিশনার পদমর্যাদার কর্মকর্তাও রয়েছেন।
তালিকাভুক্ত কর্মকর্তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকজন হলেন—সাবেক অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ, সাবেক যুগ্ম পুলিশ কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার, সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি প্রলয় কুমার জোয়ারদার, সাবেক ডিআইজি সৈয়দ নুরুল ইসলাম, নূরে আলম মিনা, মো. আনিসুর রহমান, ডিআইজি এ কে এম এহসানউল্লাহ, বিপ্লব বিজয় তালুকদার ও টুটুল চক্রবর্তী।
এ ছাড়া তালিকায় রয়েছেন সাবেক যুগ্ম পুলিশ কমিশনার এস এম মেহেদী হাসান, রিফাত রহমান শামীম, সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, সঞ্জিত কুমার রায়সহ পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটে দায়িত্ব পালন করা একাধিক কর্মকর্তা।
পুলিশ সুপার ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যেও বেশ কয়েকজনের নাম রয়েছে। একইভাবে সহকারী পুলিশ সুপার ও সহকারী কমিশনার পদমর্যাদার কয়েকজন কর্মকর্তাকেও বরখাস্তের আওতায় আনা হচ্ছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা, দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতা এবং পলাতক থাকার বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে বিধি অনুযায়ী এ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তালিকাভুক্ত কয়েকজন কর্মকর্তা বর্তমানে সাময়িক বরখাস্ত অবস্থায় রয়েছেন।
সরকারের এ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে পুলিশ বাহিনীতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং দায়িত্ব পালনে অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার বার্তা দেওয়া হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
আপনার মতামত লিখুন :