
ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সুনামগঞ্জের বিভিন্ন নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বন্যা পরিস্থিতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ অবস্থায় জেলার টাঙ্গুয়ার হাওরসহ বিভিন্ন পর্যটন এলাকায় চলাচলকারী পর্যটকবাহী হাউসবোটের জন্য জরুরি সতর্কতামূলক নির্দেশনা জারি করেছে জেলা প্রশাসন।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিকেলে সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. মতিউর রহমান খান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়। বিজ্ঞপ্তিটি জেলা প্রশাসনের ফেসবুক পেজেও প্রকাশ করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসনের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সুনামগঞ্জ ও ভারতের মেঘালয় রাজ্যের চেরাপুঞ্জি এলাকায় অতিবৃষ্টির কারণে সুরমা নদীসহ জেলার বিভিন্ন নদ-নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। এতে হাওরাঞ্চল ও নদীপথে নৌযান চলাচলে ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। পর্যটকদের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হাউসবোট মালিক, চালক ও সংশ্লিষ্টদের এসব নির্দেশনা মেনে চলতে বলা হয়েছে।
নির্দেশনায় বলা হয়, প্রতিকূল আবহাওয়া, ভারী বৃষ্টিপাত, ঝোড়ো বাতাস কিংবা নদীপথে ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি থাকলে কোনোভাবেই পর্যটক নিয়ে হাউসবোট চলাচল করা যাবে না।
এ ছাড়া প্রতিটি হাউসবোটে ধারণক্ষমতা অনুযায়ী পর্যাপ্ত সংখ্যক মানসম্মত লাইফ জ্যাকেট, লাইফবয় রিংসহ প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা সরঞ্জাম রাখতে হবে। অতিরিক্ত যাত্রী বহন থেকে বিরত থাকতে হবে এবং নিয়মিত আবহাওয়ার পূর্বাভাস, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় প্রশাসনের সতর্কতা অনুসরণ করতে হবে।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, যাত্রা শুরুর আগে পর্যটকদের নিরাপত্তা নির্দেশনা ও জরুরি পরিস্থিতিতে করণীয় সম্পর্কে অবহিত করতে হবে। পাশাপাশি প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যেকোনো নির্দেশনা যথাযথভাবে পালন করতে হবে। পরিস্থিতির অবনতি হলে প্রশাসনের নির্দেশে হাউসবোট চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হবে।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. মতিউর রহমান খান বলেন, অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে সুনামগঞ্জের নদ-নদীর পানি বাড়ছে এবং বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। দুর্ঘটনা এড়াতে পর্যটক পরিবহনকারী হাউসবোটগুলোকে সতর্কতামূলক নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য। সবাই সতর্ক থাকলে ঝুঁকি কমানো সম্ভব হবে এবং পর্যটকেরা নিরাপদ পরিবেশে ভ্রমণ করতে পারবেন।
আপনার মতামত লিখুন :