আত্রাইয়ে খনন করে ফেলে রাখা সড়ক, ৫ গ্রামের মানুষের দুর্ভোগ চরমে


আত্রাই প্রতিনিধি, ​আব্দুল মজিদ মল্লিক  প্রকাশের সময় : জুলাই ৯, ২০২৬, ৭:২৯ অপরাহ্ণ
আত্রাইয়ে খনন করে ফেলে রাখা সড়ক, ৫ গ্রামের মানুষের দুর্ভোগ চরমে

নওগাঁর আত্রাই উপজেলার কচুয়া-বাজেধনেশ্বর সড়কের বেহাল অবস্থায় চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন পাঁচ গ্রামের হাজারো মানুষ। সংস্কার ও পাকা করার জন্য প্রায় চার মাস আগে সড়কটি খনন করা হলেও এখনো কাজ শুরু না হওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই এটি পরিণত হয়েছে কাদা-পানি ও জলাবদ্ধতার স্থানে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, উন্নয়নের আশায় সড়ক খনন করা হলেও দীর্ঘদিন ধরে কাজ বন্ধ থাকায় ভোগান্তি বেড়েছে কয়েকগুণ। বর্তমানে যানবাহন চলাচল তো দূরের কথা, পায়ে হেঁটে চলাচল করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।

জানা গেছে, কচুয়া, পাইকড়া, বড়াইকুড়ি, বাজেধনেশ্বরসহ আশপাশের পাঁচ গ্রামের মানুষের উপজেলা সদর, হাট-বাজার ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম এই সড়ক। দীর্ঘদিন ধরে রাস্তাটি পাকা না হওয়ায় এলাকাবাসী দুর্ভোগে ছিলেন। সেই দুর্ভোগ কমাতে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) প্রায় ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কটি পাকা করার উদ্যোগ নেয়।

২০২৫-২৬ অর্থবছরে দরপত্র প্রক্রিয়া শেষে ঠিকাদার নিয়োগ করা হয়। কার্যাদেশ পাওয়ার পর প্রায় চার মাস আগে ঠিকাদার সড়কটি ৩ থেকে ৪ ফুট গভীর করে খনন করেন। কিন্তু এরপর অজ্ঞাত কারণে কাজ বন্ধ হয়ে যায়।

বর্তমানে বর্ষা মৌসুমে সামান্য বৃষ্টিতেই খনন করা সড়কে হাঁটুসমান পানি জমে কাদায় পরিণত হচ্ছে। ফলে কৃষকরা উৎপাদিত পণ্য বাজারে নিতে পারছেন না। পাশাপাশি স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, নারী ও সাধারণ পথচারীদের প্রতিদিন চরম ভোগান্তির মুখে পড়তে হচ্ছে। জরুরি রোগী বা গর্ভবতী নারীকে হাসপাতালে নেওয়ার ক্ষেত্রেও দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

কচুয়া গ্রামের বাসিন্দা ও বান্দাইখাড়া ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক সিরাজুল ইসলাম বলেন, চার মাস আগে রাস্তা খনন করে ফেলে রাখায় এখন সামান্য বৃষ্টিতেই এটি খালে পরিণত হয়। প্রতিদিন হাজারো মানুষ ঝুঁকি নিয়ে কাদা-পানি পার হয়ে চলাচল করছেন। দ্রুত এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানের দাবি জানান তিনি।

স্থানীয় বাসিন্দা রাসেল বলেন, রাস্তা খননের পর থেকে মানুষের কষ্ট বেড়েছে। কৃষিপণ্য পরিবহন, জরুরি চিকিৎসা সেবা গ্রহণ—সব ক্ষেত্রেই বড় ধরনের সমস্যা তৈরি হয়েছে।

আরেক বাসিন্দা সৌখিন প্রামানিক জানান, সড়কের বর্তমান অবস্থার কারণে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীদের চলাচল প্রায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই পুরো রাস্তা পানিতে তলিয়ে যায়। দ্রুত কাজ শুরু করার দাবি জানান তিনি।

এ বিষয়ে আত্রাই উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) নিতিশ কুমার বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে তারা অবগত আছেন। কাজ শুরু করার জন্য ঠিকাদারকে একাধিকবার লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। কিন্তু ঠিকাদার কাজ শুরু না করায় দরপত্র বাতিল করে পুনরায় দরপত্র আহ্বানের মাধ্যমে নতুন ঠিকাদার নিয়োগের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

স্থানীয়রা দ্রুত নতুন ঠিকাদার নিয়োগ করে সড়কের কাজ শেষ করার দাবি জানিয়েছেন, যাতে দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পান তারা।