খামেনির প্রথম জানাজায় তেহরানে জনতার মহাসমুদ্র


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুলাই ৫, ২০২৬, ১১:৪৮ পূর্বাহ্ণ
খামেনির প্রথম জানাজায় তেহরানে জনতার মহাসমুদ্র

ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলি খামেনির প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রাজধানী তেহরানের ইমাম খোমেনি মোসাল্লায় আয়োজিত এ জানাজায় অংশ নিতে লাখো মানুষ সমবেত হন। জানাজা শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগেই মোসাল্লার প্রধান প্রাঙ্গণ শোকাহত মানুষের উপস্থিতিতে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। আগামী কয়েক দিনে ইরান ও ইরাকের বিভিন্ন শহরে তার শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা অনুষ্ঠিত হবে।

ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভির খবরে বলা হয়েছে, রোববার (৫ জুলাই) আয়োজিত জানাজার নামাজে লাখো মানুষ অংশ নেন। ইমাম খোমেনি মোসাল্লায় অনুষ্ঠিত এ নামাজে ইমামতি করেন বিশিষ্ট আলেম আয়াতুল্লাহ জাফর সোবহানি।

জানাজার নামাজ তিন ধাপে অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম ধাপে শুধুমাত্র আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জন্য জানাজা আদায় করা হয়। দ্বিতীয় ধাপে নিহত বোশরা হোসেইনি খামেনি, মেসবাহ আল-হুদা বাকেরি এবং জাহরা হাদ্দাদ আদেলের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। তৃতীয় ধাপে খামেনির নাতনি জাহরা মোহাম্মদি গোলপায়েগানির জন্য জানাজার নামাজ আদায় করা হয়। ইরানি সূত্রগুলোর দাবি, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার প্রথম দিনেই তারা নিহত হন।

এর আগে শনিবার (৪ জুলাই) ভোরে তেহরানের ইমাম খোমেনি মোসাল্লায় খামেনির শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার তথ্যমতে, শনিবার থেকেই তার মরদেহ সাধারণ মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য মোসাল্লায় রাখা হয়েছে। এর আগে শুক্রবার বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও ধর্মীয় নেতারা আনুষ্ঠানিকভাবে তার প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

আয়োজকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সোমবার (৬ জুলাই) তেহরানে খামেনির মূল জানাজার শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর মঙ্গলবার (৭ জুলাই) পবিত্র শহর কোমে জানাজা ও শোকানুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। পরে তার মরদেহ ইরাকের পবিত্র শহর নাজাফ ও কারবালায় নেওয়া হবে, যেখানে বুধবার (৮ জুলাই) বিশেষ স্মরণ ও বিদায় অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) খামেনির মরদেহ ইরানের পবিত্র শহর মাশহাদে নেওয়া হবে। সেখানে ইমাম রেজার মাজার প্রাঙ্গণে তাকে দাফন করা হবে বলে জানিয়েছে আয়োজক কর্তৃপক্ষ।