কুরআনের আয়াত শুনিয়ে শত্রু-মিত্রদের বার্তা দিলো ইরান, কার জন্য কোন আয়াত


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুলাই ৫, ২০২৬, ৩:৪৫ অপরাহ্ণ
কুরআনের আয়াত শুনিয়ে শত্রু-মিত্রদের বার্তা দিলো ইরান, কার জন্য কোন আয়াত

ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শেষ শ্রদ্ধা অনুষ্ঠানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদলের উপস্থিতিতে পবিত্র কোরআন থেকে নির্বাচিত আয়াত তিলাওয়াত করা হয়েছে। এ আয়াতগুলো কেবল ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং সংশ্লিষ্ট দেশ ও পক্ষগুলোর প্রতি ইরানের কূটনৈতিক অবস্থান ও রাজনৈতিক বার্তার প্রতিফলন বলেও বিশ্লেষকদের মত উঠে এসেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে ৩০টিরও বেশি দেশের প্রতিনিধিদল অংশ নেয়। বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের উপস্থিতির সময় তাদের প্রেক্ষাপট ও সম্পর্ক অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন আয়াত নির্বাচন করা হয় বলে দাবি করা হয়েছে।

ইরানের ঘনিষ্ঠ মিত্র ও বিভিন্ন ‘প্রতিরোধ গোষ্ঠী’ হিসেবে পরিচিত সংগঠনগুলোর জন্য তিলাওয়াত করা আয়াতগুলোতে শাহাদাত, অটল বিশ্বাস এবং বিজয়ের বার্তা তুলে ধরা হয়। অন্যদিকে, সৌদি আরবসহ প্রতিদ্বন্দ্বী বা ভিন্ন অবস্থানের দেশগুলোর ক্ষেত্রে ঐতিহাসিক যুদ্ধ ও কাফিরদের পরিণতি সম্পর্কিত আয়াত পাঠ করা হয়, যা কূটনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সৌদি প্রতিনিধিদলের উপস্থিতির সময় সূরা আলে ইমরানের একটি আয়াত তিলাওয়াত করা হয়, যা বদর যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে মুসলিমদের বিজয়ের কথা স্মরণ করায়। বিশ্লেষকদের মতে, এটি একদিকে ঐতিহাসিক স্মৃতিচারণ, অন্যদিকে সূক্ষ্ম রাজনৈতিক ইঙ্গিতও বহন করে।

অন্যদিকে হামাস, হিজবুল্লাহ, হুতি, ইসলামিক জিহাদসহ বিভিন্ন গোষ্ঠীর জন্য তিলাওয়াত করা আয়াতগুলোতে শহীদদের মর্যাদা, আল্লাহর প্রতি অটল প্রতিশ্রুতি এবং প্রতিরোধের ধারাবাহিকতার বার্তা দেওয়া হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

রাশিয়া, চীন ও ভারতের মতো দেশের ক্ষেত্রে তুলনামূলকভাবে শান্ত ও নরম ভাষার আয়াত বেছে নেওয়া হয়, যেখানে ন্যায়পরায়ণতা, প্রশান্তি ও পুরস্কারের বার্তা প্রাধান্য পায়। বিশ্লেষকদের মতে, এই আয়াত নির্বাচন কেবল ধর্মীয় অনুশীলন নয়, বরং ইরানের পররাষ্ট্রনীতির আদর্শিক ও রাজনৈতিক অবস্থান প্রকাশের একটি প্রতীকী মাধ্যম হিসেবেও ব্যবহৃত হয়েছে।

তবে এসব তথ্য ও ব্যাখ্যা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক বিশ্লেষণমূলক প্রতিবেদনের ভিত্তিতে উপস্থাপিত হয়েছে বলে জানা গেছে, এবং এ নিয়ে ভিন্ন মতও রয়েছে। এভাবে ধর্মীয় আয়াতের মাধ্যমে কূটনৈতিক বার্তা প্রকাশের এই ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের জটিল রাজনৈতিক সম্পর্ক ও আদর্শিক বিভাজনকে আরও একবার সামনে নিয়ে এসেছে।