
ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি-কে ঘিরে দেশটিতে বৃহৎ পরিসরের শেষকৃত্য আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে বলে দাবি করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার বরাতে বলা হয়েছে, এটি ইরানের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় জানাজা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এসব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, খামেনির শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা মোট ছয়টি শহরে আয়োজনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর মধ্যে ইরাকের কারবালা শহরও রয়েছে, যা শিয়া মুসলিমদের কাছে অত্যন্ত পবিত্র স্থান হিসেবে বিবেচিত। ইসলামের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ এই শহরটিতে শোকানুষ্ঠানের একটি অংশ অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা গেছে।
শেষকৃত্যের সূচনা আগামী শনিবার (৪ এপ্রিল) তেহরানের নির্মাণাধীন ইমাম খোমেনি মসজিদ কমপ্লেক্সে মরদেহ রাখা দিয়ে শুরু হবে। এরপর সোমবার (২৯ জুন) রাজধানীর প্রধান সড়কগুলো দিয়ে শোভাযাত্রার মাধ্যমে মরদেহ নেওয়া হবে।
পরদিন মঙ্গলবার (৩০ জুন) মরদেহ নেওয়া হবে ধর্মীয় নগরী কোমে। সেখান থেকে তা স্থানান্তর করা হবে ইরাকের নাজাফ এবং কারবালা শহরে। পরবর্তীতে ৯ জুলাই মরদেহ ফের ইরানে এনে খামেনির জন্মস্থান মাশহাদে নিয়ে যাওয়া হবে এবং সেখানেই দাফনের পরিকল্পনা রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে ধারণা করা হচ্ছে, শেষকৃত্য উপলক্ষে দুই কোটিরও বেশি মানুষ অংশ নিতে পারেন। এতে বিভিন্ন দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি উপস্থিত থাকবেন বলেও দাবি করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বাংলাদেশ থেকে জাতীয় সংসদের স্পিকার এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, তবে তার অংশগ্রহণ অনিশ্চিত বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে এই পুরো আয়োজন ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে ইরানি কর্তৃপক্ষ বা সংশ্লিষ্ট কোনো নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে এখনো এসব তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।
আপনার মতামত লিখুন :