মুকসুদপুরে সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ, তদন্তে কমিটি গঠন


মুকসুদপুর প্রতিনিধি, মিরান গাজী   প্রকাশের সময় : জুলাই ১, ২০২৬, ৩:৩৬ অপরাহ্ণ
মুকসুদপুরে সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ, তদন্তে কমিটি গঠন

গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার ১৪৮ নম্বর কদমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে সহকর্মী নারী শিক্ষকের যৌন হয়রানি ও অসদাচরণের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের পর উপজেলা শিক্ষা অফিস বিষয়টি তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, একই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হ্যাপি খানম লিখিত অভিযোগে সহকর্মী শিক্ষক রাজিবুল ইসলামের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে কুপ্রস্তাব দেওয়া, অশোভন আচরণ এবং মানসিকভাবে হয়রানির অভিযোগ এনেছেন। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, প্রায় দুই বছর ধরে বিভিন্ন সময় তাকে অনাকাঙ্ক্ষিত প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছিল।

অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, বিদ্যালয়ের ওয়াশরুমে যাওয়ার সময় অভিযুক্ত শিক্ষক দরজার সামনে দাঁড়িয়ে থাকতেন এবং নানা ধরনের অশোভন আচরণ করতেন, যার ফলে তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতেন এবং অনেক সময় বাধ্য হয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে ওয়াশরুমে যেতেন।

এছাড়া অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, বিষয়টি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দেলোয়ারা বেগমসহ অন্য দুই সহকারী শিক্ষক তাসলিমা ও শরিফা সুলতানা যুথীর নজরে আসে। পরে প্রধান শিক্ষক অভিযুক্ত শিক্ষককে সতর্ক করলে তিনি অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং উত্তেজিত হয়ে হাত তুলতে উদ্যত হন বলেও অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।

অভিযোগকারী শিক্ষক বিষয়টি উপজেলা শিক্ষা অফিসে লিখিতভাবে জমা দেন এবং তার অনুলিপি সাংবাদিকদের কাছেও প্রদান করা হয়েছে।

অন্যদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে সহকারী শিক্ষক রাজিবুল ইসলাম বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তিনি দাবি করেন, তিনি শুধু স্বাভাবিকভাবে কথা বলেছেন ও হাসি-ঠাট্টা করেছেন এবং তাকে বিদ্যালয় থেকে সরিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে মুকসুদপুর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এম. এ. নাইম বলেন, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সরকারি বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উল্লেখ্য, বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে, তাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে কোনো মন্তব্য করা যাচ্ছে না।