মা-বাবার বার্ধক্য কেন হৃদয়ে এত গভীর কষ্ট জাগায়


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুলাই ১, ২০২৬, ১২:৪৭ অপরাহ্ণ
মা-বাবার বার্ধক্য কেন হৃদয়ে এত গভীর কষ্ট জাগায়

ছোটবেলায় বাবা-মায়ের শাসন বা বকুনি অনেকের কাছেই বিরক্তিকর মনে হতো। তখন মনে হতো, কবে বড় হওয়া যাবে। কিন্তু সময়ের স্রোতে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেই অনুভূতি বদলে যায়। একসময় মনে হয়, সেই বকুনিগুলোই ছিল সবচেয়ে আপন, সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয়।

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যখন বাবা-মায়ের শরীর দুর্বল হয়ে আসে, চলাফেরা ধীর হয়ে যায় বা তাঁরা সন্তানের ওপর নির্ভর করতে শুরু করেন, তখন সন্তানের মনে এক অচেনা কষ্ট তৈরি হয়। মনোবিদদের মতে, আমরা শৈশব থেকেই বাবা-মাকে সবচেয়ে শক্তিশালী এবং নির্ভরযোগ্য মানুষ হিসেবে দেখে বড় হই। জীবনের সব সমস্যায় তাঁদেরই প্রথম আশ্রয় মনে হয়। কিন্তু সেই মানুষগুলোকেই যখন ধীরে ধীরে বয়সের ভারে বদলে যেতে দেখি, তখন পরিচিত সেই নিরাপত্তাবোধে ভাঙন ধরে।

বিশেষজ্ঞরা এই অনুভূতিকে ‘অস্পষ্ট হারানোর অনুভূতি’ হিসেবে ব্যাখ্যা করেন। অর্থাৎ বাবা-মা শারীরিকভাবে উপস্থিত থাকলেও বয়সজনিত পরিবর্তনের কারণে তাঁরা আগের মতো থাকেন না। এই পরিবর্তন একই সঙ্গে দুঃখ, ভয়, শূন্যতা এবং কখনও অপরাধবোধের অনুভূতি তৈরি করতে পারে।

আরেকটি গভীর কারণ হলো, বাবা-মায়ের বার্ধক্য আমাদের নিজেদের জীবনের সীমাবদ্ধতাও মনে করিয়ে দেয়। তাঁদের অনুপস্থিতির সম্ভাবনা বা সময়ের সীমাবদ্ধতা নতুন করে উপলব্ধি করায়, যা অনেকের মনে গভীর আবেগের ঝড় তোলে।

তবে মনোবিদদের মতে, এই কষ্ট দুর্বলতা নয়; বরং এটি বাবা-মায়ের সঙ্গে সন্তানের গভীর সম্পর্কেরই প্রতিফলন। ভালোবাসা যত গভীর হয়, বিচ্ছেদ বা পরিবর্তনের অনুভূতিও তত বেশি স্পর্শ করে।

জীবনের স্বাভাবিক নিয়মে সময়ের সঙ্গে সম্পর্কের ভূমিকাও বদলায়। একসময় বাবা-মা সন্তানের পথপ্রদর্শক হন, আবার সময়ের সঙ্গে সন্তানই তাঁদের ভরসা হয়ে ওঠে। এই পরিবর্তনই জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য বাস্তবতা।

বিশেষজ্ঞরা তাই পরামর্শ দেন, বাবা-মায়ের সঙ্গে বেশি সময় কাটানো, তাঁদের কথা মন দিয়ে শোনা, যত্ন নেওয়া এবং ভালোবাসা প্রকাশ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সময় কখনো থেমে থাকে না, আর জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান স্মৃতিগুলো গড়ে ওঠে এই ছোট ছোট মুহূর্তগুলোতেই।