মিরপুরে শ্বশুর-শাশুড়িকে মাদকে ফাঁসাতে গিয়ে সাবেক জামাই গ্রেপ্তার


মিরপুর উপজেলা প্রতিনিধি, আশিক। প্রকাশের সময় : জুন ২৯, ২০২৬, ৮:৩৬ অপরাহ্ণ
মিরপুরে শ্বশুর-শাশুড়িকে মাদকে ফাঁসাতে গিয়ে সাবেক জামাই গ্রেপ্তার

তালাক দেওয়ার প্রতিশোধ নিতে সাবেক শ্বশুর, শাশুড়ি ও স্ত্রীকে নিষিদ্ধ মাদক ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট দিয়ে ফাঁসাতে গিয়ে নিজেই পুলিশের হাতে ধরা পড়েছেন এক ব্যক্তি। রোববার (২৮ জুন) গভীর রাতে কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার কুর্শা ইউনিয়ন এলাকায় এ চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে।

গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম মো. হাসিবুল ইসলাম ঠান্টু (৩২)। তিনি মিরপুর উপজেলার মাঝিহাট এলাকার রফিকুল মন্ডলের ছেলে। মিরপুর থানা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় নয় বছর আগে মিরপুর উপজেলার কুন্টিয়ারচর এলাকার ফারুক হোসেনের মেয়ের সঙ্গে ঠান্টুর বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই ঠান্টু মাদকাসক্ত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। মাদকের টাকা ও বিভিন্ন অজুহাতে তিনি স্ত্রীকে নিয়মিত নির্যাতন করতেন।

স্বামীর নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে গত ২১ জুন ফারুক হোসেনের মেয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ঠান্টুকে তালাক দেন। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে শ্বশুরবাড়ির লোকজনকে ফাঁসাতে প্রতিশোধের পরিকল্পনা করেন ঠান্টু।

পুলিশ জানায়, রোববার রাতে কৌশলে সাবেক শ্বশুরবাড়িতে প্রবেশ করে বসতঘরের একটি বালিশের নিচে ২৮ পিস নিষিদ্ধ ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট লুকিয়ে রাখেন তিনি। এরপর নিজেই মিরপুর থানায় ফোন করে জানান, ফারুক হোসেনের বাড়িতে অবৈধ মাদক রয়েছে।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযান চালায় এবং ঘরের ভেতর থেকে ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করে। তবে পুরো বিষয়টি পুলিশের কাছে সন্দেহজনক মনে হলে ফারুক হোসেনের পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি তথ্যদাতা ঠান্টুকেও থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে পুলিশের জেরার মুখে ভেঙে পড়েন ঠান্টু। তিনি স্বীকার করেন, তালাকের প্রতিশোধ নিতেই সাবেক শ্বশুরবাড়িতে মাদক রেখে পুলিশকে খবর দিয়েছিলেন। মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, তালাকের জেরে সাবেক স্ত্রী ও শ্বশুর-শাশুড়িকে ফাঁসাতে এই পরিকল্পনা করেছিলেন ঠান্টু। মাদক উদ্ধারের পর সন্দেহ হওয়ায় জিজ্ঞাসাবাদে তিনি নিজের অপরাধ স্বীকার করেন।

তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় ঠান্টুর বিরুদ্ধে মিরপুর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে। পরে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।