ব্যাংক রেজল্যুশন আইনে বড় এক পরিবর্তনের ঘোষণা


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুন ২৯, ২০২৬, ৭:৩১ অপরাহ্ণ
ব্যাংক রেজল্যুশন আইনে বড় এক পরিবর্তনের ঘোষণা

ব্যাংক রেজল্যুশন আইন, ২০২৬-এর বিতর্কিত ১৮(ক) ধারা বাতিল করার ঘোষণা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। একই সঙ্গে একীভূত পাঁচ ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীদের অর্থ ফেরতের বিষয়ে পথনকশাও তুলে ধরেছেন তিনি। সোমবার (২৯ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের ওপর সমাপনী বক্তব্যে এ ঘোষণা দেন অর্থমন্ত্রী।

তিনি বলেন, অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে ব্যাংক রেজল্যুশন আইন, ২০২৬-এর বিতর্কিত ১৮(ক) ধারা বিলোপের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকারের অবস্থান স্পষ্ট—যারা জনগণের সম্পদ লুট করেছে, তাদের ছাড় দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে আমানতকারীদের অর্থের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। জানা গেছে, গত ১০ এপ্রিল অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ পরবর্তীতে আইনে পরিণত করে বিএনপি সরকার। আইনটি সংসদে পাসের আগে এতে ১৮(ক) নামে একটি নতুন ধারা যুক্ত করা হয়।

ওই ধারায় বলা হয়েছিল, কোনো ব্যাংক রেজল্যুশনের আওতায় যাওয়ার আগে যারা ওই ব্যাংকের শেয়ারধারক ছিলেন, তারা চাইলে পরবর্তীতে আবারও ওই ব্যাংকের শেয়ার, সম্পদ ও দায় নেওয়ার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে আবেদন করতে পারবেন। প্রয়োজনে বাংলাদেশ ব্যাংক অন্য কোনো উপযুক্ত ব্যক্তিকেও এ সুযোগ দিতে পারবে। তবে ধারা যুক্ত হওয়ার পর থেকেই এটি নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়। বিরোধী দলগুলোর পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, এই ধারার মাধ্যমে বিতর্কিত ব্যবসায়ীদের হাতে ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে দেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

এদিকে, একীভূত পাঁচটি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকের আমানতকারীদের বিষয়ে অর্থমন্ত্রী জানান, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের ব্যক্তিগত আমানতকারীরা চলতি ও সঞ্চয়ী হিসাব থেকে সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা পর্যন্ত তুলতে পারবেন। অবশিষ্ট অর্থ ধাপে ধাপে ফেরত দেওয়া হবে। তিনি জানান, ক্যানসার ও কিডনি ডায়ালাইসিস রোগী, হজ সঞ্চয়কারী এবং ডিপিএস গ্রাহকদের জন্য বিশেষ মানবিক সুবিধা রাখা হয়েছে।

পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ বাড়াতে অর্থ বিলে বিভিন্ন সংশোধনী আনার কথাও জানান অর্থমন্ত্রী। এর মধ্যে রয়েছে জিরো কুপন বন্ডের আয় করমুক্ত করা, তালিকাভুক্ত কোম্পানির জন্য করছাড়, ব্যাংকিং চ্যানেলে সব লেনদেন সম্পন্ন করা প্রতিষ্ঠানের জন্য অতিরিক্ত করসুবিধা এবং লভ্যাংশের ওপর করহার কমানোর প্রস্তাব।

এছাড়া মিউচুয়াল ফান্ডে কর রেয়াতের জন্য পাঁচ লাখ টাকা বিনিয়োগসীমা তুলে দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। সমাপনী বক্তব্যে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, গত মে মাস পর্যন্ত ১১টি অগ্রাধিকার মামলায় দেশে ও বিদেশে প্রায় ৭২ হাজার ৩৪৩ কোটি টাকার সম্পদ জব্দ করা হয়েছে। বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফেরাতে ১৩টি দেশে ২৩টি ‘মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স রিকোয়েস্ট’ পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও জানান, বড় ঋণগ্রহীতা ছয়টি গ্রুপের বিরুদ্ধে প্রথম ধাপে দেওয়ানি কার্যক্রম শুরুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকার ঋণনির্ভর অর্থনীতি থেকে বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতির দিকে এগোচ্ছে। আগামী অর্থবছরে ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ গ্রহণ ছয় হাজার কোটি টাকা কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি পরিচালন ব্যয় কমিয়ে উন্নয়ন ব্যয়ের অংশ বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরে তিনি বলেন, ৬০টি পণ্যের উৎসে কর কমানো, ব্যবসা সহজ করতে ডিরেগুলেশন, সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং বাজার কারসাজির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে। তিনি আরও বলেন, বাজেটের সাফল্য শুধু ঘোষণায় নয়, বাস্তবায়নের ওপর নির্ভর করে। তাই প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, জবাবদিহি ও বাস্তবায়ন সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে।