নতুন পে স্কেলের জন্য অপেক্ষা বাড়ছে যাদের


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুন ২৯, ২০২৬, ৫:৩১ অপরাহ্ণ
নতুন পে স্কেলের জন্য অপেক্ষা বাড়ছে যাদের

বহুল প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় বেতন কাঠামো বা নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন এই বেতন কাঠামো কার্যকর করার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে সরকার। প্রায় ১১ বছর পর নতুন পে-স্কেল চালুর খবরে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা দিলেও এখনও সব শ্রেণির কর্মীদের জন্য বিষয়টি পুরোপুরি স্পষ্ট হয়নি। নতুন পে-স্কেলের মূল সুবিধাভোগী হিসেবে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিষয়টি সামনে থাকলেও পেনশনভোগী, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারী এবং স্বায়ত্তশাসিত ও আধা-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আগামী ১ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের ঘোষণা দেন। এ জন্য বাজেটে প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকা সংরক্ষণের কথাও জানানো হয়। তবে কীভাবে, কোন ধাপে এবং কারা প্রথমে এই সুবিধা পাবেন—সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত নির্দেশনা প্রকাশ করা হয়নি। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বরাদ্দকৃত অর্থ সরাসরি ‘সেলারি অ্যান্ড অ্যালাউন্সেস’ খাতে না দেখিয়ে ‘নেট পাবলিক সার্ভিস’-এর আওতায় রাখা হয়েছে। এ অর্থ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, পেনশনভোগী ও এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের সমন্বিত সুবিধার জন্য ব্যবহার হতে পারে। তবে বিষয়টি নির্ভর করবে সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও বাস্তবায়ন পরিকল্পনার ওপর।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মতে, আলোচনায় থাকা প্রস্তাব অনুযায়ী প্রথম ধাপে সংশোধিত মূল বেতনের ৫০ শতাংশ, পরবর্তী ধাপে বাকি ৫০ শতাংশ এবং পরে বিভিন্ন ভাতা সমন্বয়ের পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে ১ জুলাই থেকে পে-স্কেল কার্যকর হলেও সবাই একসঙ্গে পুরো সুবিধা হাতে নাও পেতে পারেন। সূত্রের দাবি, জুলাই থেকে কার্যক্রম শুরু হলেও বর্ধিত বেতনের অর্থ পেতে অক্টোবর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে।

পে কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, সর্বনিম্ন বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব রয়েছে। বিভিন্ন গ্রেডে ১০০ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বেতন বৃদ্ধির সুপারিশও করা হয়েছে। তবে চূড়ান্ত গেজেট, গ্রেডভিত্তিক কাঠামো এবং প্রথম ধাপে কত শতাংশ কার্যকর হবে—তা এখনো ঘোষণা হয়নি। গত বুধবার (২৪ জুন) সচিব কমিটির বৈঠকে পে কমিশনের জনপ্রশাসন-সংক্রান্ত সুপারিশগুলো নীতিগতভাবে অনুমোদন করা হয়েছে। তবে বিচার বিভাগ ও সশস্ত্র বাহিনী-সংক্রান্ত সুপারিশ এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

এদিকে অবসরোত্তর ছুটিতে (এলপিআর) থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও নতুন পে-স্কেলের আওতায় আসবেন বলে জানা গেছে। সরকার বর্তমানে কয়েকটি বিকল্প প্রস্তাব বিবেচনা করছে। এর মধ্যে রয়েছে মূল বেতন ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি, ১ম থেকে ৯ম গ্রেডে ৪০ শতাংশ এবং ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডে ৬০ শতাংশ বৃদ্ধি, অথবা নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের বেসিক শতভাগ বৃদ্ধির পরিকল্পনা। পেনশনভোগী ও এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বিষয়টিও সরকারের বিবেচনায় রয়েছে। তবে তারা সরকারি কর্মচারীদের মতো একই সময়ে ও একই পদ্ধতিতে সুবিধা পাবেন কি না, সে বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

সবচেয়ে বেশি অনিশ্চয়তায় রয়েছেন স্বায়ত্তশাসিত ও আধা-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা। বিভিন্ন বোর্ড, করপোরেশন, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও বিশেষায়িত সরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের ক্ষেত্রে আলাদা সিদ্ধান্তের প্রয়োজন হতে পারে। সব মিলিয়ে নবম পে-স্কেলের মূল সুবিধা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নিশ্চিত হলেও অন্যান্য শ্রেণির কর্মীদের ক্ষেত্রে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করছে সরকারি প্রজ্ঞাপন ও বাস্তবায়ন নির্দেশনার ওপর। নতুন গেজেট প্রকাশের পরই পরিষ্কার হবে—কারা ১ জুলাই থেকেই নতুন বেতন কাঠামোর সুবিধা পাবেন এবং কারা আরও কিছুদিন অপেক্ষায় থাকবেন।