
দিনাজপুরে ‘মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচি’র আওতায় ওয়ানস্টপ সার্ভিস এনরোলমেন্ট ক্যাম্পেইন-২০২৬-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। শুক্রবার (২৬ জুন) সকালে দিনাজপুর মিউনিসিপ্যাল হাইস্কুলে আয়োজিত অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন নারী, শিশু ও সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। দিনাজপুর জেলা প্রশাসক মো. রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, “যে জাতি নারীদের সম্মান ও শিশুদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পারে না, সেই জাতি কখনো উন্নতি করতে পারে না। তাই সর্বক্ষেত্রে নারীর মর্যাদা ও শিশুদের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।”
মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচির গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, গর্ভবতী মা ও নবজাতকের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করাই এ কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য। ২০ থেকে ৩৫ বছর বয়সী নারীরা গর্ভধারণের পর থেকে সন্তান জন্মের পরবর্তী সময় পর্যন্ত প্রয়োজনীয় সহায়তা পেলে মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষা আরও জোরদার হবে।
মন্ত্রী আরও জানান, বর্তমানে গর্ভবতী মায়েদের প্রতি মাসে ৮৫০ টাকা ভাতা দেওয়া হলেও আগামী জুলাই মাস থেকে এ সহায়তার পরিমাণ বাড়িয়ে ৯০০ টাকা করা হবে।
মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর, দিনাজপুর কার্যালয়ের আয়োজনে এবং জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি)-এর কারিগরি সহায়তায় ক্যাম্পেইনটি পরিচালিত হচ্ছে। কর্মসূচির সার্বিক বাস্তবায়নে সহযোগিতা করছে ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম (এনডিপি)।
অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্বিক পরিস্থিতি, পরিচালনা পর্ষদের ভূমিকা এবং নারী ও শিশুদের প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ সম্পর্কে কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পৌর প্রশাসক ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. রিয়াজ উদ্দিন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) দিনাজপুর জেলা শাখার সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মোফাজ্জল হোসেন দুলাল, ডব্লিউএফপির ডেপুটি কান্ট্রি ডিরেক্টর ভাই থাপা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তমালিকা পালসহ মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর, সমাজসেবা অধিদপ্তরের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা।
আপনার মতামত লিখুন :