
ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার ৯১ নম্বর ইসলামিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণ শেষ হয়েছে প্রায় ছয় মাস আগে। তবে নির্মাণকাজে নানা ত্রুটি থাকায় এখনো বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে ভবনটি হস্তান্তর করা হয়নি। ফলে নতুন ভবন প্রস্তুত থাকলেও বাধ্য হয়ে পুরোনো জরাজীর্ণ ভবনেই গাদাগাদি করে চলছে পাঠদান কার্যক্রম।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী রয়েছে ৬০ জন এবং শিক্ষক রয়েছেন পাঁচজন। পুরোনো ভবনের মাত্র তিনটি কক্ষে পাঁচটি শ্রেণির ক্লাস পরিচালনা করা হচ্ছে। একটি কক্ষ অফিস হিসেবে ব্যবহার করা হলেও জায়গার সংকটের কারণে সেখানেও পাঠদান নিতে হচ্ছে। বাকি দুই কক্ষে একসঙ্গে দুটি করে শ্রেণির ক্লাস চলছে।
শিক্ষকরা জানান, একই কক্ষে দুই শ্রেণির পাঠদান চলায় শিক্ষক ও শিক্ষার্থী উভয়কেই সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। একজন শিক্ষক ক্লাস নেওয়ার সময় অন্য শ্রেণির শিক্ষককে অপেক্ষা করতে হয়। এতে পাঠদানের সময় নষ্ট হচ্ছে এবং শিক্ষার্থীদের মনোযোগেও ব্যাঘাত ঘটছে।
উপজেলা প্রকৌশল কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চতুর্থ প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (পিইডিপি-৪) প্রকল্পের আওতায় ৭১ লাখ ৬৫ হাজার ৮০ টাকা ব্যয়ে তিন কক্ষবিশিষ্ট একতলা নতুন ভবন নির্মাণের কাজ পায় মেসার্স টোয়াইস কনস্ট্রাকশন। পরে কাজটি সম্পন্ন করে মেসার্স নির্ণয় এন্টারপ্রাইজ। চুক্তি অনুযায়ী ২০২৪ সালের ২৪ মার্চ কাজ শুরু হয়ে ২০২৫ সালের ৯ ডিসেম্বর শেষ হওয়ার কথা ছিল।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিলরুবা আক্তারী বলেন, নতুন ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। নিম্নমানের কাঠ ব্যবহারের কারণে কয়েকটি দরজা বেঁকে গেছে। এসব ত্রুটি ঠিক না হওয়া পর্যন্ত ভবন গ্রহণ করা সম্ভব নয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, নির্মাণকাজের শুরু থেকেই অনিয়ম ছিল। এর ফলেই ভবনে বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিয়েছে। তারা দ্রুত ত্রুটি সংশোধন করে নতুন ভবন চালুর দাবি জানিয়েছেন।
মেসার্স টোয়াইস কনস্ট্রাকশনের স্বত্বাধিকারী মো. আনিছুর রহমান বলেন, তিনি কাজ বিক্রি করে দেওয়ার পর এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানেন না। মেসার্স নির্ণয় এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী বাপ্পি কুণ্ড বলেন, চুক্তি অনুযায়ী কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। তবে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ভবন গ্রহণ না করায় হস্তান্তর প্রক্রিয়া আটকে আছে।
রাজাপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আক্তার হোসেন বলেন, নির্মাণকাজে ত্রুটি থাকায় প্রধান শিক্ষক ভবন বুঝে নিচ্ছেন না। বিষয়টি সমাধানে এখনো অগ্রগতি হয়নি। উপজেলা প্রকৌশলী অভিজিৎ মজুমদার জানান, ভবন হস্তান্তরের জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে আগেও চিঠি দেওয়া হয়েছে। দ্রুত হস্তান্তরের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এর আগে গত ৬ এপ্রিল বিদ্যালয়ের নতুন ভবন পরিদর্শনে আসেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. রাইহুল করিম। পরিদর্শন শেষে তিনি উল্লেখ করেন, তালার চাবি না থাকায় পুরো ভবন পরিদর্শন করা সম্ভব হয়নি। এছাড়া রংয়ের কাজ চলমান থাকায় দরজা-জানালার গুণগত মান যাচাই করা যায়নি। ভবনের কিছু অংশে ফাটলও রয়েছে বলে তিনি পরিদর্শন খাতায় উল্লেখ করেন।
আপনার মতামত লিখুন :