
বেতন ও ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে ঝালকাঠিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতিতে নেমেছেন হ্যান্ডেলিং শ্রমিকরা। শনিবার (১৩ জুন) সকাল থেকে এই কর্মবিরতি শুরু হলে জাহাজ থেকে বিভিন্ন ধরনের পণ্য আড়তে ওঠানো-নামানোর কাজ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যায়। এতে বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রমে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটে এবং চরম ভোগান্তিতে পড়েন ব্যবসায়ী ও পরিবহন শ্রমিকরা।
ঝালকাঠি হ্যান্ডেলিং শ্রমিক ফেডারেশনের নেতারা জানান, বর্তমানে একজন শ্রমিক দৈনিক গড়ে প্রায় ৮০০ টাকা আয় করলেও নানা খরচ বাদ দিয়ে হাতে থাকে মাত্র প্রায় ৫০০ টাকা। বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে এই আয় দিয়ে পরিবার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। তাই দীর্ঘদিন ধরে তারা পারিশ্রমিক বৃদ্ধির দাবি জানিয়ে আসছেন। তাদের প্রস্তাব অনুযায়ী, ৫০ কেজি ওজনের বস্তা জাহাজ থেকে গুদামে ওঠানোর ক্ষেত্রে প্রতি বস্তায় ১০ টাকা এবং ডেলিভারির জন্য ১২ টাকা হারে মজুরি নির্ধারণ করতে হবে।
শ্রমিক নেতারা আরও জানান, প্রায় নয় মাস ধরে তারা দাবি আদায়ে বিভিন্নভাবে চেষ্টা চালিয়ে আসছেন। স্থানীয় সংসদ সদস্য ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টোর অনুরোধে ঈদুল আজহা পর্যন্ত আন্দোলন স্থগিত রাখা হয়েছিল। তবে কোনো বাস্তব অগ্রগতি না হওয়ায় শনিবার থেকে বাধ্য হয়েই তারা কর্মবিরতি শুরু করেন।
এদিকে হঠাৎ এই কর্মবিরতির কারণে বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসা পরিবহন শ্রমিক ও ব্যবসায়ীরা বিপাকে পড়েছেন। রাজাপুর থেকে পণ্য পরিবহনে আসা এক পিকআপ চালক জানান, সকালে ঝালকাঠিতে এসে তিনি দেখেন শ্রমিকরা কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন। ফলে জাহাজ থেকে পণ্য খালাস ও পরিবহন সম্ভব হচ্ছে না, এতে সময় ও অর্থ—দুটোই ক্ষতির মুখে পড়ছে।
সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন, দ্রুত শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা করে সমস্যা সমাধান না হলে বন্দরের কার্যক্রম আরও দীর্ঘ সময় ব্যাহত হতে পারে এবং পুরো পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
আপনার মতামত লিখুন :