
অপরাধের দায়ে একজন ব্যক্তি শাস্তি ভোগ করলেও কারামুক্তির পর স্বাভাবিক ও সম্মানজনক জীবন গড়ার সুযোগ তার মৌলিক অধিকার। এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে পটুয়াখালী জেলা কারাগারের বন্দিদের দক্ষ ও আত্মকর্মসংস্থানে উপযোগী মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে জেলা প্রশাসন।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী কারাবন্দিদের সেলাই প্রশিক্ষণ কার্যক্রমকে আরও আধুনিক ও কার্যকর করতে কারা কর্তৃপক্ষের কাছে দুটি ডিজিটাল সেলাই মেশিন আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেন। অপরাধী সংশোধন ও পুনর্বাসন সমিতি, পটুয়াখালীর অর্থায়নে মেশিন দুটি সংগ্রহ করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, জেলা কারাগার পরিদর্শনের সময় জেলা ম্যাজিস্ট্রেট লক্ষ্য করেন যে, কারাগারে থাকা পুরোনো ও ত্রুটিপূর্ণ প্যাডেলচালিত সেলাই মেশিনের কারণে বন্দিদের প্রশিক্ষণ গ্রহণে নানা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে। আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও অনেক বন্দি কার্যকরভাবে সেলাই কাজ শিখতে পারছিলেন না। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে বন্দিদের অলস সময়কে উৎপাদনমুখী কাজে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেন তিনি।
এর অংশ হিসেবে অপরাধী সংশোধন ও পুনর্বাসন সমিতিকে আধুনিক ডিজিটাল সেলাই মেশিন ক্রয়ের নির্দেশনা দেওয়া হয়। নতুন মেশিন সংযোজনের ফলে বন্দিদের দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
উল্লেখ্য, জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের উদ্যোগে এর আগে কারাবন্দিদের ঝাড়ু তৈরির আধুনিক প্রশিক্ষণও প্রদান করা হয়েছে। বর্তমানে জেলা কারাগারের সাতজন কয়েদি নিয়মিত ঝাড়ু উৎপাদনের সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছেন এবং এ কাজের মাধ্যমে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করছেন।
পটুয়াখালী জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কারাবন্দিদের দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করা এবং কারামুক্তির পর তাদের সমাজের মূলধারায় সম্পৃক্ত হয়ে সম্মানজনক জীবিকা অর্জনে সহায়তা করাই এ কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য। আধুনিক প্রশিক্ষণ ও কর্মমুখী উদ্যোগের মাধ্যমে বন্দিদের আত্মনির্ভরশীল করে তোলার এই প্রচেষ্টা পুনর্বাসন কার্যক্রমে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, ডিজিটাল সেলাই মেশিন হস্তান্তরের এই উদ্যোগ বন্দিদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করবে এবং ভবিষ্যতে তাদের স্বাবলম্বী জীবন গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
আপনার মতামত লিখুন :