
ভূমি অধিগ্রহণ (এলএ) শাখায় দালালচক্র ও হয়রানি প্রতিরোধে পটুয়াখালী জেলা প্রশাসনের চলমান শুদ্ধি অভিযানের অংশ হিসেবে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে এক সন্দেহভাজন দালালকে আটক ও দণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গত ৪ জুন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহণ শাখায় পরিচালিত মোবাইল কোর্টে এক ব্যক্তিকে সন্দেহজনক অবস্থায় আটক করা হয়। অফিস চলাকালীন সময়ে সার্ভেয়ারদের কক্ষে তার উপস্থিতি এবং সংশ্লিষ্ট এলএ মামলার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি কোনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।
পরে দায়িত্বপ্রাপ্ত এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের জিজ্ঞাসাবাদে ওই ব্যক্তি নিজের দালালি কর্মকাণ্ডের কথা স্বীকার করেন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজ করবেন না বলে অঙ্গীকার করেন। অপরাধ স্বীকার করায় ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে ২০০ টাকা অর্থদণ্ড এবং তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন।
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী গত ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ সালে পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে জেলা রাজস্ব প্রশাসনে শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। বিশেষ করে ভূমি অধিগ্রহণ শাখায় জমির মালিকদের ক্ষতিপূরণ প্রাপ্তির ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা কথিত ‘পার্সেন্টেজ বাণিজ্য’ ও দালালদের দৌরাত্ম্য বন্ধে তিনি জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছেন।
সূত্র আরও জানায়, দালালচক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের এলএ শাখার একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীকে তাৎক্ষণিকভাবে বদলি করা হয়েছে। পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ভূমি অধিগ্রহণসহ সকল সরকারি সেবায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, শৃঙ্খলা ও সুশাসন নিশ্চিত করতে প্রশাসন বদ্ধপরিকর। সাধারণ মানুষের হয়রানি বন্ধ এবং দালালমুক্ত সেবা নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতেও নিয়মিত মোবাইল কোর্ট, নজরদারি ও শুদ্ধি অভিযান অব্যাহত থাকবে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, জেলা প্রশাসনের এমন উদ্যোগ সরকারি সেবায় জনগণের আস্থা বৃদ্ধি এবং দুর্নীতি প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
আপনার মতামত লিখুন :