
নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ গড়ে তোলার মাধ্যমে সমাজ ও রাষ্ট্রে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক। তিনি বলেছেন, শিক্ষা শুধু জ্ঞান অর্জনের বিষয় নয়; এর মূল উদ্দেশ্য মানুষের মধ্যে নৈতিকতা, দায়িত্ববোধ ও মানবিক মূল্যবোধ সৃষ্টি করা।
এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে নুরুল হক এসব কথা বলেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. শহিদুল ইসলাম, গলাচিপা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মো. ফোরকান কবির, গলাচিপা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ইমতিয়াজ আহমেদ, উপজেলা গণঅধিকার পরিষদের আহ্বায়ক মো. হাফিজুর রহমান এবং জেলা যুব অধিকার পরিষদের সহ-সভাপতি মো. মহিবুল্লাহ এনিমসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
নুরুল হক বলেন, “শিক্ষার প্রধান কাজ হচ্ছে মূল্যবোধ সৃষ্টি করা। আমরা যদি নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ তৈরি করতে না পারি, তাহলে সমাজ ও রাষ্ট্রের কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন সম্ভব নয়। একজন শিক্ষক কোনো অংশেই বাবা-মায়ের চেয়ে কম নন। একজন শিক্ষার্থীকে জীবন, বাস্তবতা এবং দায়িত্ববোধ সম্পর্কে ধারণা দিতে শিক্ষকদের বিকল্প নেই।”
তিনি বলেন, “শুধু নিজের সফলতা নয়, আশপাশের মানুষকে নিয়ে সফল হওয়ার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে। নিজের সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে সমাজ ও রাষ্ট্রের উন্নয়নে অবদান রাখতে হবে। আত্মকেন্দ্রিক চিন্তা মানুষকে কখনো প্রকৃত তৃপ্তি দিতে পারে না। বরং যারা পরিবার, সমাজ ও দেশের কথা ভাবেন, তারাই জীবনে বেশি সফল ও শান্তিতে থাকেন।”
শিক্ষার্থীদের পেশা নির্বাচনের স্বাধীনতার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, “সবাই ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার হবে এমন নয়। কেউ খেলাধুলায় ভালো, কেউ সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে দক্ষ। তাদের প্রতিভা অনুযায়ী এগিয়ে যেতে উৎসাহিত করতে হবে। সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রেই দক্ষ মানুষের প্রয়োজন রয়েছে।”
অভিভাবকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “সন্তানদের ওপর অপ্রয়োজনীয় চাপ সৃষ্টি না করে আনন্দ ও স্বস্তির সঙ্গে পড়াশোনার পরিবেশ নিশ্চিত করুন। তাদের আগ্রহ ও সক্ষমতাকে গুরুত্ব দিন।”
সমাজে বিরোধ ও দ্বন্দ্ব কমিয়ে মূল্যবোধভিত্তিক সামাজিক পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়ে নুরুল হক বলেন, “জায়গা-জমির বিরোধ নিয়ে অসংখ্য মানুষ বিভিন্ন সমস্যায় পড়ছেন। আমরা যদি সত্যিকারের সামাজিক পরিবর্তন চাই, তাহলে আগে নিজেদের পরিবর্তন করতে হবে এবং নৈতিক মূল্যবোধকে ধারণ করতে হবে।”
আপনার মতামত লিখুন :