
অধ্যক্ষ পদ শূন্য হয়ে পড়ায় আবারও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ দিয়েই চলছে সরকারি পাতারহাট আর.সি কলেজের প্রশাসনিক কার্যক্রম। গত ৯ এপ্রিল অধ্যক্ষ খান মোহাম্মদ গাউস মোসাদ্দেক অবসরজনিত কারণে বিদায় নেওয়ার পর নতুন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন ইলিয়াস শাহ।
এর আগে ২০২৩ সালের ১৬ জানুয়ারি সাবেক অধ্যক্ষ মাহবুবুল হক ইকবালের অবসরের পর উপাধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করেন। দায়িত্বকালে তিনি নানা বিতর্ক ও সমালোচনার মুখে পড়েন এবং ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর আত্মগোপনে চলে যান বলে জানা যায়।
পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ১৬ এপ্রিল বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারের অধ্যাপক খান মোহাম্মদ গাউস মোসাদ্দেক সরকারি বিএম কলেজ থেকে বদলি হয়ে সরকারি পাতারহাট আর.সি কলেজে অধ্যক্ষ হিসেবে যোগ দেন। তবে দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র এক বছরের মধ্যে তিনি অবসরে গেলে পদটি পুনরায় শূন্য হয়ে পড়ে।
অধ্যক্ষ পদ শূন্য থাকায় বর্তমানে কলেজের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে কিছুটা স্থবিরতা তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষকরা। শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক হালিম মনির বলেন, নতুন অধ্যক্ষ নিয়োগ না হওয়ায় কলেজের কার্যক্রমে গতিশীলতা কমে গেছে।
বাংলা বিভাগের প্রভাষক আশরাফুল আলম বলেন, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী শিক্ষক একই প্রতিষ্ঠানের হওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে কঠোর সিদ্ধান্ত গ্রহণে সীমাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে। তিনি দ্রুত একজন অভিজ্ঞ ও দীর্ঘমেয়াদি দায়িত্ব পালনে সক্ষম অধ্যক্ষ নিয়োগের দাবি জানান।
শিক্ষার্থীরাও দ্রুত স্থায়ী অধ্যক্ষ নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন। অনার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী রাফিন বলেন, স্থায়ী নেতৃত্ব না থাকায় তারা একাডেমিক সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন।
উল্লেখ্য, ১৯৬৬ সালে প্রতিষ্ঠিত সরকারি পাতারহাট আর.সি কলেজটি মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার একমাত্র উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে যাত্রা শুরু করে। ২০১৬ সালে অনার্স কোর্স চালু হয় এবং ২০১৮ সালে এটি জাতীয়করণ করা হয়। বর্তমানে কলেজটিতে প্রায় ১৬০০ শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত।
আপনার মতামত লিখুন :