অফিস শেষেও মানুষের পাশে পটুয়াখালীর ডিসি: ২৪ ঘন্টায় ঘর পেলেন ৩ অসহায় নারী


মুহাম্মাদ রাকিব ,পটুয়াখালী প্রকাশের সময় : মে ১৫, ২০২৬, ৫:৪৩ অপরাহ্ণ
অফিস শেষেও মানুষের পাশে পটুয়াখালীর ডিসি: ২৪ ঘন্টায় ঘর পেলেন ৩ অসহায় নারী

অফিস সময় শেষ হয়েছে কিছুক্ষণ আগেই। দিনের ব্যস্ততা গুছিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী। ঠিক সেই সময় জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে অসহায়ভাবে দাঁড়িয়ে থাকা তিন নারীর দিকে নজর পড়ে তার। প্রটোকলের আনুষ্ঠানিকতা উপেক্ষা করে তাদের কাছে ডাকেন তিনি। শোনেন অভাব-অনটনের হৃদয়স্পর্শী গল্প। আর মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই সেই কান্না বদলে যায় স্বস্তির হাসিতে।

ঘটনাটি ঘটে গত বুধবার (১৩ মে) সন্ধ্যা ৫টা ৪০ মিনিটে। বাড়ি ফেরার পথে জেলা প্রশাসক দেখতে পান মাটিভাঙ্গা গ্রামের রানী বালা, ইটবাড়িয়ার আলেয়া বেগম এবং শারিকখালীর বিথী আক্তার জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে অপেক্ষা করছেন। পরে তাদের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারেন, তিনজনই বিধবা এবং দীর্ঘদিন ধরে চরম আর্থিক সংকটে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

তাদের বসবাসের ঘরগুলোও ছিল জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ। নিরাপদ আশ্রয়ের আশায় তারা জেলা প্রশাসকের কাছে ঢেউটিন ও কিছু নগদ অর্থ সহায়তার আবেদন জানান।

বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে নিয়ে জেলা প্রশাসক তাৎক্ষণিকভাবে জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই করে দ্রুত সহায়তা দেওয়ার নির্দেশ দেন।

জেলা প্রশাসকের নির্দেশনার পর মাত্র একদিনের ব্যবধানে গত বৃহস্পতিবার (১৪ মে) ওই তিন পরিবারের হাতে ঘর নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় ঢেউটিন ও নগদ অর্থ তুলে দেওয়া হয়। দ্রুত সময়ে প্রশাসনের এমন কার্যকর উদ্যোগে খুশি সুবিধাভোগী পরিবারগুলো।

স্থানীয়দের মতে, অফিস সময়ের বাইরেও জেলা প্রশাসকের এমন মানবিক ও জনবান্ধব আচরণ সাধারণ মানুষের মধ্যে ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দিয়েছে। পটুয়াখালী জেলা প্রশাসনের প্রতি মানুষের আস্থা আরও বেড়েছে বলেও মনে করছেন তারা।

এদিকে, জেলা প্রশাসকের এই উদ্যোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে প্রশংসিত হচ্ছে। মানবিক প্রশাসনের উদাহরণ হিসেবে ঘটনাটি ইতোমধ্যে পটুয়াখালীজুড়ে আলোচনায় এসেছে।