ছোট কারখানায় বড় পরিবর্তন, নাজিরপুরে অর্ধশত নারীর স্বাবলম্বিতার গল্প


নাজিরপুর উপজেলা প্রতিনিধি, আবু সাঈদ শেখ প্রকাশের সময় : মে ১৪, ২০২৬, ১২:৪৮ অপরাহ্ণ
ছোট কারখানায় বড় পরিবর্তন, নাজিরপুরে অর্ধশত নারীর স্বাবলম্বিতার গল্প

পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার রঘুনাথপুর, বুইচাকাঠি ও চিথলিয়া গ্রামের অর্ধশতাধিক নারীর জীবনে নতুন আশার আলো জ্বালিয়েছে কেমিক্যালের বস্তা থেকে শপিং ব্যাগ তৈরির একটি ক্ষুদ্র উদ্যোগ। একসময় অভাব-অনটনে থাকা এসব নারী এখন নিজ আয়ে পরিবারে স্বচ্ছলতা ফিরিয়ে আনছেন।

এই উদ্যোগের উদ্যোক্তা বুইচাকাঠি গ্রামের দুলাল হাওলাদার। গ্রামের নারীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করার লক্ষ্য নিয়েই তিনি ছোট পরিসরে ব্যাগ তৈরির কারখানা গড়ে তোলেন। কারখানায় কেমিক্যালের ব্যবহৃত বস্তা সংগ্রহ ও প্রসেসিং করার পর তা নারীদের বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়। পরে নারীরা অবসর সময়ে সেই বস্তা দিয়ে শপিং ব্যাগ তৈরি করেন।

এ কাজে যুক্ত নারীরা জানান, নিজেদের উপার্জনের মাধ্যমে তারা এখন সংসারের খরচ, সন্তানের পড়ালেখা এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয় মেটাতে পারছেন।

কারিগর সালামা বলেন, “এই কাজের মাধ্যমে আমরা পরিবার চালাতে পারছি। তবে কারখানার মালিক আর্থিক সংকটে আছেন। সরকারি সহায়তা পেলে উদ্যোগটি আরও বড় আকারে পরিচালনা করা সম্ভব হবে।” আরেক কর্মী শিউলি বলেন, “আগে সংসারে অনেক কষ্ট ছিল। এখন নিজের আয় দিয়ে পরিবারকে সহযোগিতা করতে পারছি।”

জানা গেছে, কারখানাটিতে প্রতি মাসে প্রায় চার থেকে পাঁচ লাখ টাকার বস্তা প্রয়োজন হয়। একটি বস্তা থেকে দুটি ব্যাগ তৈরি করা যায়। প্রতিটি বস্তার দাম সাত টাকা হলেও প্রতিটি ব্যাগ পাইকারিতে বিক্রি হয় সাড়ে পাঁচ টাকায়। শ্রমিক মজুরি ও অন্যান্য ব্যয় বাদ দিয়ে প্রতিটি ব্যাগে প্রায় ৫০ পয়সা লাভ থাকে।

তৈরি হওয়া ব্যাগ স্থানীয় বাজার ছাড়াও আশপাশের জেলা ও উপজেলায় সরবরাহ করা হচ্ছে। তবে বর্তমানে ব্যবসাটি প্রায় পাঁচ থেকে ছয় লাখ টাকার ঋণের চাপে রয়েছে বলে জানান উদ্যোক্তা দুলাল হাওলাদার। তিনি বলেন, “সুদমুক্ত ঋণ সুবিধা পেলে আবার ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব হবে।”

স্থানীয়রা বলছেন, এই উদ্যোগ শুধু নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করেনি, তাদের আত্মমর্যাদাবোধও বাড়িয়েছে। সরকারি বা বেসরকারি সহায়তা পেলে এ উদ্যোগ আরও বিস্তৃত হবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।

এ বিষয়ে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নাজমুন নাহার জানান, বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া হবে।