
পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে দিনাজপুরের ঐতিহাসিক গোর-এ-শহীদ বড় ময়দানে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে জেলার প্রধান ঈদের জামাত। আগামী ২৮ মে সকাল সাড়ে ৮টায় এই জামাত অনুষ্ঠিত হবে। এ উপলক্ষে ইতোমধ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে জেলা প্রশাসন ও দিনাজপুর পৌরসভা।
মঙ্গলবার বিকেলে ঈদগাহ মাঠ পরিদর্শন করেন দিনাজপুর সদর আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম, জেলা প্রশাসক মো. রফিকুল ইসলাম এবং পুলিশ সুপার জেদান আল মুসা। পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন সংসদ সদস্য সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম। তিনি দিনাজপুর শহরসহ আশপাশের এলাকার মুসল্লিদের গোর-এ-শহীদ বড় ময়দানে এসে ঈদের নামাজ আদায়ের আহ্বান জানান। একইসঙ্গে ঈদের নামাজের মধ্য দিয়ে একটি সমৃদ্ধ ও সাম্যের বাংলাদেশ গঠনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
আয়তনের দিক থেকে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ ঈদগাহ হিসেবে পরিচিত এই মাঠে দিনাজপুর পৌরসভার ব্যবস্থাপনায় ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে। জামাতে ইমামতি করবেন দিনাজপুর জেলা ইমাম সমিতির সভাপতি বিশিষ্ট আলেম মাওলানা মতিউর রহমান কাসেমী।
ঈদের জামাতে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে আগত বিপুলসংখ্যক মুসল্লির অংশগ্রহণের আশা করা হচ্ছে।
জেলা প্রশাসক মো. রফিকুল ইসলাম জানান, শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে জামাত সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মুসল্লিদের সুবিধার্থে পর্যাপ্ত ওজুখানা, বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা এবং মাঠজুড়ে মাইক স্থাপনের কাজ করা হয়েছে।
পুলিশ সুপার জেদান আল মুসা বলেন, ঈদের জামাতকে ঘিরে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। মাঠজুড়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। প্রবেশপথে বসানো হয়েছে মেটাল ডিটেক্টর। মুসল্লিরা শুধুমাত্র জায়নামাজ ও ছাতা নিয়ে মাঠে প্রবেশ করতে পারবেন। এছাড়া সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে দুটি নজরদারি টাওয়ার স্থাপন করা হয়েছে।
মাঠ পরিদর্শনের সময় আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তমালিকা পাল, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আনোয়ার হোসেন, পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মিনারুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সদস্য আলহাজ মোস্তফা কামাল মিলনসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।
দিনাজপুর পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, প্রায় ২২ একর জায়গাজুড়ে বিস্তৃত গোর-এ-শহীদ বড় ময়দানে ১৯৪৭ সালের পর থেকেই ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। ২০১৭ সালে এখানে ৫২টি গম্বুজ, চারটি মিনার ও দীর্ঘ আর্চ নির্মাণের মাধ্যমে ঈদগাহটির সৌন্দর্য বৃদ্ধি করা হয়। সিরামিকস ও দৃষ্টিনন্দন আলোকসজ্জায় সজ্জিত এই ঈদগাহ মাঠ রাতে আলোকিত হয়ে ওঠে অনন্য রূপে।
২০১৭ সাল থেকে বৃহৎ পরিসরে এখানে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। এ বছরও দিনাজপুরসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে বিপুলসংখ্যক মুসল্লির সমাগম হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আপনার মতামত লিখুন :