চিকিৎসকদের নিরাপত্তা দাবিতে পঞ্চগড়ে মানববন্ধন


পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি, মার্শাদুল ইভেন প্রকাশের সময় : মে ১৮, ২০২৬, ৭:০২ অপরাহ্ণ
চিকিৎসকদের নিরাপত্তা দাবিতে পঞ্চগড়ে মানববন্ধন

শেরপুর জেলা হাসপাতালে এক রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. নাসির ইসলামের ওপর হামলার ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে পঞ্চগড়ের স্বাস্থ্যসেবা সংশ্লিষ্টরা। একইসঙ্গে দেশের সকল সরকারি ও বেসরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (১৮ মে) দুপুরে পঞ্চগড় সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সামনে বাংলাদেশ প্রাইভেট হাসপাতাল, ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক অ্যাসোসিয়েশন পঞ্চগড় জেলা শাখার উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালিত হয়।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, চিকিৎসকরা মানুষের জীবন বাঁচাতে নিরলসভাবে কাজ করলেও সাম্প্রতিক সময়ে তাদের ওপর হামলা, হুমকি ও হয়রানির ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। এ ধরনের ঘটনা চিকিৎসকদের মনোবলে নেতিবাচক প্রভাব ফেলার পাশাপাশি দেশের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাকেও ঝুঁকির মুখে ফেলছে।

বক্তারা আরও বলেন, হাসপাতালে অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো ঘটনা ঘটলে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া উচিত নয়। যেকোনো অভিযোগ যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তদন্ত ও বিচার হওয়া প্রয়োজন।

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন সংগঠনের পঞ্চগড় জেলা শাখার সভাপতি ডা. খালেক তহিদ পুলক। তিনি বলেন, “চিকিৎসকরা প্রতিনিয়ত জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মানুষের সেবা দিচ্ছেন। কিন্তু তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম ব্যাহত হবে। হামলাকারীদের দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।”

এসময় সিটি ক্লিনিকের মালিক মিজানুর রহমান মিজান বলেন, “স্বাস্থ্যখাত একটি মানবিক সেবামূলক ক্ষেত্র। এখানে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকারকে আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।”

গ্রিন ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক নয়ন বলেন, “একটি কুচক্রী মহল বিভিন্ন সময় চিকিৎসাসেবার পরিবেশ নষ্ট করতে অপপ্রচার চালায়। এসব বন্ধ করে চিকিৎসকদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।”

এছাড়াও দুলাল, আব্দুল মান্নান, রুবেল ও মোহাম্মদ আনিস বক্তব্য রাখেন। বক্তারা চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর হামলা বন্ধে কার্যকর আইন প্রয়োগ এবং স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে স্থায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলার দাবি জানান।

মানববন্ধনে জেলার বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ স্বাস্থ্যসেবা খাতের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন।