মালয়েশিয়ার বিভিন্ন স্থানে পৃথক সড়ক ও কর্মস্থল দুর্ঘটনায় তিন প্রবাসী বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। নিহতরা হলেন জমির শেখ, জাফর আলম ও ফজলুর রহমান। তাদের মধ্যে জমির শেখের বাড়ি ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুরে এবং জাফর আলমের বাড়ি কক্সবাজার জেলার উখিয়া উপজেলার হাজীরপাড়া ইউনিয়নের টাইংগাকাটা এলাকায়।
জানা গেছে, জাফর আলম দীর্ঘদিন ধরে মালয়েশিয়ায় শ্রমিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। গত মঙ্গলবার ডিংকেল এলাকায় একটি নির্মাণাধীন ভবনের ছাদে কাজ করার সময় অসাবধানতাবশত নিচে পড়ে গুরুতর আহত হন তিনি। পরে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় বলে সহকর্মীরা জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, গত শুক্রবার বিকেলে কেলাং এক্সপ্রেসওয়ে-এ ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন জমির শেখ। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে একটি লরি মহাসড়কের মাঝখানে থেমে গেলে সেটিকে সহায়তা করতে আরও একটি লরি ও একটি পিকআপ ভ্যান দাঁড়ায়। এ সময় পেছন দিক থেকে দ্রুতগতিতে আসা আরেকটি লরি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা যানবাহনগুলোকে সজোরে ধাক্কা দেয়।
মুহূর্তেই সেখানে ভয়াবহ সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। ঘটনাস্থলেই দুইজন নিহত হন, যার মধ্যে একজন ছিলেন বাংলাদেশি শ্রমিক জমির শেখ। এছাড়া আরও কয়েকজন আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে, অতিরিক্ত গতির কারণেই এ দুর্ঘটনা ঘটেছে।
এদিকে মালয়েশিয়ার সারাওয়াক রাজ্যের বিনতাংর এলাকার মেরাদংয়ে লরির ধাক্কায় নিহত হয়েছেন নির্মাণশ্রমিক ফজলুর রহমান। তিনি একটি সেতু নির্মাণ প্রকল্পে কাজ করছিলেন। মেরাদং জেলা পুলিশের প্রধান ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট তানস্লী মেরিং জানান, সকাল প্রায় ৮টা ৫০ মিনিটে দুর্ঘটনাটি ঘটে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ফজলুর রহমান হঠাৎ রাস্তা পার হওয়ার সময় দ্রুতগতির একটি লরির ধাক্কায় গুরুতর আহত হন। মাথায় গুরুতর আঘাত পাওয়ায় ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, লরিচালক খুব কাছাকাছি দূরত্বে থাকায় দুর্ঘটনা এড়ানোর পর্যাপ্ত সময় পাননি। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সারিকাই হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং বিষয়টি বাংলাদেশ দূতাবাসকে অবহিত করা হয়েছে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের এমন ধারাবাহিক মৃত্যুতে মালয়েশিয়ায় কর্মরত বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
আপনার মতামত লিখুন :