বগুড়ার বুজর্গধামা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের অমানবিকভাবে শাস্তি দেওয়ার ঘটনায় আলোচিত প্রধান শিক্ষিকা গোল সাহানারাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
স্কুলের গাছ থেকে আম পেড়ে খাওয়ার অভিযোগে তিন শিক্ষার্থীকে ‘জুতার মালা’ পরিয়ে এবং পিঠে ‘আমি আম চোর’ লেখা লাগিয়ে বিদ্যালয় চত্বর ও শ্রেণিকক্ষে ঘোরানোর ঘটনায় তাকে এ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের রাজশাহী বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক নূর আখতার জান্নাতুল ফেরদৌস স্বাক্ষরিত আদেশে বুধবার (৬ মে) এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়। আদেশে বলা হয়েছে, জারির দিন থেকেই তা কার্যকর হবে।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) বগুড়া জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রেজোয়ান হোসেন জানান, তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পরপরই বিভাগীয় কর্তৃপক্ষ ওই প্রধান শিক্ষিকাকে সাময়িক বরখাস্ত করেন। পরে বিধি অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ এপ্রিল বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী গাছ থেকে কাঁচা আম পেড়ে খায়। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে প্রধান শিক্ষিকা পরদিন চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির তিন শিক্ষার্থীকে অফিস কক্ষে ডেকে নিয়ে শারীরিক শাস্তি দেন। এরপর তাদের গলায় জুতার মালা পরিয়ে এবং শরীরে ‘আমি আম চোর’ লেখা কাগজ লাগিয়ে বিদ্যালয় চত্বর ও বিভিন্ন শ্রেণিকক্ষে ঘোরানো হয়। অভিযোগ রয়েছে, এ কাজে কিছু সহকারী শিক্ষকও সহযোগিতা করেন।
ঘটনাটি জানাজানি হলে অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরে প্রধান শিক্ষিকা মুখে ক্ষমা চাইলেও তারা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। বিষয়টি জানার পর বগুড়া সদর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা গোলাম কবির অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষিকাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেন এবং একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটি বিদ্যালয় পরিদর্শন করে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের বক্তব্য গ্রহণ করে।
তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পরই প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। শিক্ষা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পরবর্তী তদন্তের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে বলে জানা গেছে।
আপনার মতামত লিখুন :