হরমুজের ‘অভিভাবক’ হবে যুক্তরাষ্ট্র, আদায় করবে টোল: ট্রাম্প


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুলাই ১৪, ২০২৬, ৪:০১ অপরাহ্ণ
হরমুজের ‘অভিভাবক’ হবে যুক্তরাষ্ট্র, আদায় করবে টোল: ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর নৌ অবরোধ পুনর্বহালের ঘোষণা দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালির ‘অভিভাবক’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে এবং ওই পথ দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের কার্গোর ওপর ২০ শতাংশ হারে টোল আরোপের পরিকল্পনা রয়েছে।

সোমবার (১৩ জুলাই) ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকার এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এসব ঘোষণা দেন। এর কিছুক্ষণ আগেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা দেখা দেয়। ইরানের দাবি, তারা বাহরাইন, কুয়েত, ওমান ও জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে আবারও হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের উপকূলীয় কয়েকটি বন্দরনগরী লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, “আমরা ইরানের ওপর নৌ অবরোধ পুনরায় কার্যকর করছি। এর উদ্দেশ্য হলো ইরানের জাহাজ ও তাদের গ্রাহকদের প্রবেশ ও প্রস্থান নিয়ন্ত্রণ করা।” মার্কিন নৌবাহিনীর নেতৃত্বাধীন জয়েন্ট মেরিটাইম ইনফরমেশন সেন্টার জানিয়েছে, মঙ্গলবার গ্রিনিচ মান সময় রাত ৮টা (২০:০০ GMT) থেকে এ অবরোধ কার্যকর হওয়ার কথা।

ট্রাম্প আরও বলেন, “এখন থেকে যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালির অভিভাবক হিসেবে পরিচিত হবে। এই অঞ্চলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ব্যয়ের বিপরীতে প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত সব কার্গোর ওপর ২০ শতাংশ টোল আরোপ করা হবে।” তবে ট্রাম্পের এ ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক মেরিটাইম অর্গানাইজেশন (আইএমও) এক বিবৃতিতে আন্তর্জাতিক নৌপথে বাধ্যতামূলক টোল আরোপের বিরোধিতা করেছে। সংস্থাটি বলেছে, আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের জন্য ব্যবহৃত প্রণালিগুলো দিয়ে পারাপারে কোনো দেশের একতরফাভাবে ফি বা টোল আরোপের আইনি ভিত্তি নেই।

বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বে সমুদ্রপথে পরিবাহিত তেল ও গ্যাসের প্রায় ২০ শতাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়। ফলে এ অঞ্চলে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। এদিকে ইরানও যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষণার কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। দেশটির যৌথ সামরিক কমান্ড খাতাম আল-আম্বিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্সের এক মুখপাত্র বলেছেন, হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ মেনে নেওয়া হবে না।

তিনি সতর্ক করে বলেন, ইরানের অনুমতি ছাড়া যদি কোনো বিদেশি সামরিক বাহিনী এ অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে, তাহলে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী তার কঠোর জবাব দেবে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তা দেওয়া আঞ্চলিক দেশগুলোকেও কঠোর পরিণতির মুখোমুখি হতে হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। তবে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের পারস্পরিক হামলা এবং উভয় পক্ষের দাবিগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। পরিস্থিতি ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক মহল বিষয়টি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।