সুপার টাইফুনের আঘাতে লন্ডভন্ড মার্কিন দ্বীপপুঞ্জ


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুলাই ৬, ২০২৬, ৫:৫৮ অপরাহ্ণ
সুপার টাইফুনের আঘাতে লন্ডভন্ড মার্কিন দ্বীপপুঞ্জ

ক্যাটাগরি–৫ হারিকেনের সমান শক্তিশালী সুপার টাইফুন ‘বাভি’র তাণ্ডবে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণাধীন নর্দার্ন মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জ ও গুয়াম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে ছোট দ্বীপ রোটা-তে, যা কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।

স্থানীয় ও মার্কিন সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা যায়, সোমবার ভোরে ঝড়টি আঘাত হানে। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় আবহাওয়া সংস্থা জানায়, টাইফুন বাভির কেন্দ্র বা ‘চোখ’ সরাসরি রোটা দ্বীপের ওপর দিয়ে অতিক্রম করে। এ সময় বাতাসের সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় প্রায় ২৯০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছে, যা ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞ সৃষ্টি করে।

ঝড় আঘাত হানার সময় রোটার প্রায় ১ হাজার ৫০০ বাসিন্দাকে ঘরের ভেতরে বা নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে প্রবল বাতাস, ভারী বৃষ্টি ও আকস্মিক বন্যায় অনেক ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। স্থানীয় প্রশাসনের এক কর্মকর্তা জানান, পুরো এলাকা এখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে এবং অনেক স্থানে যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণভাবে ভেঙে পড়েছে।

তিনি আরও জানান, ঝড়ের আঘাতে একটি প্রধান মোবাইল টাওয়ার ভেঙে পড়ায় একাধিক এলাকায় মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধ হয়ে গেছে। বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ চিত্র এখনও পাওয়া যায়নি।

রোটা দ্বীপটি গুয়াম থেকে ৮০ কিলোমিটারেরও কম দূরত্বে অবস্থিত। আবহাওয়াবিদরা সতর্ক করে বলেছেন, ঝড়ের তীব্রতার কারণে বহু এলাকা কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়তে পারে। গাছপালা উপড়ে পড়া, রাস্তা-ঘাট ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকার আশঙ্কা রয়েছে।

গুয়াম ও নর্দার্ন মারিয়ানা অঞ্চলে মোট প্রায় ২ লাখ ১০ হাজার মানুষের বসবাস। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ২০ থেকে ৩০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে, যার ফলে আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার জন্য কঠোরভাবে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আবহাওয়াবিদরা আরও জানিয়েছেন, উষ্ণ সমুদ্রের পানি ও বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এ ধরনের শক্তিশালী ঝড়ের সংখ্যা ও তীব্রতা বাড়ছে। চলতি বছরে সমুদ্রের তাপমাত্রা রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছানোয় সুপার টাইফুন আরও শক্তিশালী হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বর্তমানে টাইফুনটি এলাকা ছাড়লেও এর পরবর্তী প্রভাব হিসেবে বন্যা, বিদ্যুৎ বিপর্যয় ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা এখনো রয়ে গেছে বলে সতর্ক করেছে কর্তৃপক্ষ।