যুক্তরাষ্ট্রে তীব্র তাপপ্রবাহে অন্তত ২৫ জনের মৃত্যু


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুলাই ৬, ২০২৬, ৪:০৪ অপরাহ্ণ
যুক্তরাষ্ট্রে তীব্র তাপপ্রবাহে অন্তত ২৫ জনের মৃত্যু

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সৃষ্ট রেকর্ড তাপপ্রবাহে পুড়ছে যুক্তরাষ্ট্রের বিস্তীর্ণ অঞ্চল। প্রচণ্ড এই গরমে দেশটিতে এখন পর্যন্ত অন্তত ২৫ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান।

শনিবার (৪ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের সময় এবং পরবর্তী দিনগুলোতে লাখো মানুষকে এই চরম আবহাওয়ার মুখোমুখি হতে হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

দেশটির আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, একটি বিশাল ‘হিট ডোম’ বা তাপবলয় বর্তমানে পূর্বাঞ্চলের ওপর অবস্থান করছে। এর ফলে ২০টিরও বেশি অঙ্গরাজ্যে তাপমাত্রা ১০০ ডিগ্রি ফারেনহাইট (প্রায় ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস) ছাড়িয়ে গেছে। বর্তমানে প্রায় ১৪ কোটি মানুষ সক্রিয় তাপ সতর্কতার মধ্যে রয়েছে।

সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে নিউজার্সি অঙ্গরাজ্যে। সেখানে জনস্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, অন্তত ১০টি কাউন্টিতে তীব্র গরমে ২২ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মৃতদের বেশিরভাগের বয়স ৩০ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে। অনেককে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণবিহীন ঘর, রাস্তাঘাট, পার্ক ও গাড়ির ভেতর থেকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

রাজ্য স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, এটি কোনো সাধারণ গ্রীষ্মকালীন তাপপ্রবাহ নয়; বরং এই পরিস্থিতি যেকোনো বয়সী মানুষের জন্য দ্রুত প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে।

নিউজার্সি ছাড়াও ইলিনয় ও মিসিসিপি অঙ্গরাজ্য থেকেও তাপপ্রবাহে মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। মিসিসিপির হিন্ডস কাউন্টিতে ৭৪ বছর বয়সী মিচেল রে কুলির মরদেহ একটি গ্যাস স্টেশনের পেছন থেকে উদ্ধার করা হয়। চিকিৎসকদের মতে, তার মৃত্যু তীব্র গরমজনিত কারণে হয়েছে। একই এলাকায় ৮৩ বছর বয়সী মার্থা আইরিন বাগানে পড়ে যাওয়ার পর দীর্ঘ সময় রোদের মধ্যে থাকার কারণে মারা যান।

চরম তাপপ্রবাহের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত একাধিক অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়। জাতীয় মল চত্বরে আয়োজিত একটি মেলাও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়, যেখানে অন্তত ৪৪ জন দর্শনার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েন। জরুরি সেবা বিভাগ ওইদিন ৫১ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয় এবং ১২ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করে।

আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, তাপপ্রবাহের কেন্দ্র এখন ধীরে ধীরে উত্তর-পূর্ব ও মধ্য-পশ্চিম অঞ্চল থেকে সরে দক্ষিণ ও মধ্য-আটলান্টিক অঞ্চলের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, ঘন ঘন এ ধরনের চরম তাপপ্রবাহ জলবায়ু পরিবর্তনেরই ফল, যা মোকাবিলায় গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন কমানো ছাড়া বিকল্প নেই। মার্কিন আবহাওয়া দপ্তর জনগণকে পর্যাপ্ত পানি পান, সরাসরি সূর্যালোক এড়িয়ে চলা এবং প্রতিবেশীদের খোঁজখবর রাখার আহ্বান জানিয়েছে।