ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্প ৬ দিন পর ধ্বংসস্তূপ থেকে তিন বছরের শিশুকে জীবিত উদ্ধার


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুলাই ১, ২০২৬, ৫:৪৩ অপরাহ্ণ
ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্প ৬ দিন পর ধ্বংসস্তূপ থেকে তিন বছরের শিশুকে জীবিত উদ্ধার

ভয়াবহ ভূমিকম্পের ছয় দিন পর ভেনেজুয়েলায় ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে অলৌকিকভাবে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে তিন বছর বয়সী এক শিশুকে। জর্ডানের একটি আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা শিশুটিকে উদ্ধার করেন। বিরল এই ঘটনায় বিপর্যস্ত দেশটির মানুষের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লা গুয়াইরা রাজ্যের একটি ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপ থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, উদ্ধারকারীরা শিশুটিকে বের করে আনার পর আনন্দে উল্লাস করছেন।

ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ জানিয়েছেন, উদ্ধার হওয়া শিশুটির নাম ক্লিয়েবার মোরান। তিনি বলেন, এই সফল উদ্ধার অভিযান প্রমাণ করেছে, ভয়াবহ বিপর্যয়ের মধ্যেও আশার আলো রয়েছে।

জর্ডানের সিভিল ডিফেন্সের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ধ্বংসস্তূপ থেকে বের করার পর ঘটনাস্থলেই শিশুটিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে রাজধানী কারাকাসে তার নিবিড় চিকিৎসা চলছে এবং তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে বলে জানিয়েছেন ভেনেজুয়েলার অ্যাসেম্বলি প্রেসিডেন্ট জর্জ রদ্রিগেজ। তিনি বলেন, ক্লিয়েবারকে জীবিত উদ্ধারের ঘটনা দেখিয়ে দিয়েছে যে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা মানুষের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাওয়ার যথেষ্ট কারণ রয়েছে।

তবে এই আশাব্যঞ্জক ঘটনার পাশাপাশি দেশটির সামগ্রিক পরিস্থিতি এখনো ভয়াবহ। গত সপ্তাহে ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে ভেনেজুয়েলায় এখন পর্যন্ত নিহত হয়েছেন ১ হাজার ৯৪৩ জন। আহত হয়েছেন ১০ হাজারের বেশি মানুষ। এ ছাড়া বহু মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার স্যাটেলাইট তথ্যের প্রাথমিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ভূমিকম্পে প্রায় ৫৮ হাজার ৮৭০টি ভবন আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত বা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভূমিকম্পের পর প্রথম ৭২ ঘণ্টা জীবিত উদ্ধারের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। এই সময় পার হওয়ার পর ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে জীবিত কাউকে উদ্ধারের সম্ভাবনা অনেক কমে যায়। তাই ছয় দিন পর শিশুটিকে জীবিত উদ্ধার হওয়াকে অত্যন্ত বিরল ঘটনা হিসেবে দেখছেন তারা। এদিকে জাতিসংঘ জানিয়েছে, ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত হাজার হাজার মানুষ এখনো খাদ্য ও আশ্রয় সংকটে রয়েছেন। বিশেষ করে লা গুয়াইরা অঞ্চলে পরিস্থিতি সবচেয়ে নাজুক। স্থানীয় বাসিন্দারা নিজেরাই অনেক জায়গায় উদ্ধারকাজ চালাচ্ছেন।

জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত অন্তত ৩০ হাজার মানুষের জন্য আগামী ছয় মাসে ত্রাণ, সুরক্ষা ও অস্থায়ী আশ্রয়ের ব্যবস্থা করতে প্রাথমিকভাবে দেড় কোটি মার্কিন ডলার প্রয়োজন। অন্যদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) সতর্ক করেছে, দেশটির স্বাস্থ্যব্যবস্থা এখন চরম চাপের মধ্যে রয়েছে। টিকাদানের হার কম থাকায় হাম ও ডিপথেরিয়ার মতো সংক্রামক রোগ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বেড়েছে।