মামলাজটের কারণে অনেক ক্ষেত্রে আসামিরাই সুবিধা পাচ্ছেন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুন ২৫, ২০২৬, ২:৫৪ অপরাহ্ণ
মামলাজটের কারণে অনেক ক্ষেত্রে আসামিরাই সুবিধা পাচ্ছেন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

দেশে মাদকসংক্রান্ত প্রায় ৮০ হাজার মামলা বিচারাধীন থাকায় বিচারপ্রক্রিয়া দীর্ঘসূত্রতায় পড়ছে এবং এর ফলে অনেক ক্ষেত্রে আসামিরাই সুবিধা পাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, বিদ্যমান আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক সীমাবদ্ধতার কারণে মাদকের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে নানা প্রতিবন্ধকতা তৈরি হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ‘মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বর্তমানে দেশে প্রায় ৮০ হাজার মাদক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এর মধ্যে ঢাকায় প্রায় ১৮ হাজার এবং চট্টগ্রামে প্রায় ৩৯ হাজার মামলা রয়েছে। বিপুল সংখ্যক মামলার কারণে আদালতগুলোতে চাপ বাড়ছে এবং বিচারপ্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হচ্ছে।

তিনি বলেন, বিদ্যমান মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন দিয়ে আধুনিক ও সংগঠিত মাদক অপরাধ মোকাবিলা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেক মাদক কারবারির নিজস্ব সশস্ত্র বাহিনী থাকলেও অভিযান পরিচালনাকারী মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শকদের কাছে কোনো অস্ত্র নেই। এ অবস্থাকে তিনি ‘ঢাল-তলোয়ারবিহীন নিধিরাম সর্দার’-এর সঙ্গে তুলনা করেন।

মন্ত্রী আরও বলেন, দেশে মাদক শনাক্তকরণের জন্য পর্যাপ্ত পরীক্ষাগার না থাকায় জব্দকৃত মাদকের দ্রুত পরীক্ষা ও আইনি কার্যক্রম সম্পন্ন করতে বিলম্ব হচ্ছে। পাশাপাশি গ্রেপ্তারকৃতদের থানায় হস্তান্তরের আগে রাখার জন্য অধিদপ্তরের নিজস্ব হাজতখানাও নেই।

এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় মাদক মামলার জন্য পৃথক ট্রাইব্যুনাল গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। একই সঙ্গে সংশোধিত আইনে হাজতখানা নির্মাণ, পরিবহন সুবিধা, ডগ স্কোয়াড গঠন এবং আধুনিক অস্ত্র সরবরাহের বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, মাদক ব্যবসার ধরন এখন পরিবর্তিত হয়েছে। অনলাইনে মাদক কেনাবেচা, অর্থপাচার এবং মানি লন্ডারিংয়ের মতো অপরাধ বাড়ছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিদ্যমান মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধন ও আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই সংশোধনী বিল জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হবে।

তিনি আরও বলেন, মাদক আইনের পাশাপাশি মানি লন্ডারিং ও সাইবার অপরাধসংক্রান্ত আইনও আধুনিকায়ন করা হবে, যাতে প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধের বিরুদ্ধে আরও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়।