সন্তানের বাধায় দুইবার খুঁড়তে হলো বাবার কবর


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুন ২১, ২০২৬, ৪:১১ অপরাহ্ণ
সন্তানের বাধায় দুইবার খুঁড়তে হলো বাবার কবর

একবার নয়, দুইবার কবর খোঁড়া হলো। তবুও মিলছিল না শেষ ঠিকানা। বাড়ির উঠানে পড়ে থাকা মরদেহকে ঘিরে চলে তর্ক-বিতর্ক, ধাক্কাধাক্কি এমনকি হাতাহাতির ঘটনাও। জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত সন্তানদের জন্য যিনি সংগ্রাম করেছেন, মৃত্যুর পর সেই সন্তানদের বিরোধেই আটকে যায় তার শেষ বিদায়।

ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার রসুলপুরে মৃত জলিল পণ্ডিতের মরদেহ দাফনকে কেন্দ্র করে এমনই হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। পারিবারিক বিরোধের জেরে দাফন নিয়ে তৈরি হয় উত্তেজনা ও সংঘর্ষের ঘটনা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জলিল পণ্ডিত জীবদ্দশায় চারটি বিয়ে করেছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি দুই স্ত্রী ও সাত সন্তান রেখে গেছেন। সম্প্রতি তার মৃত্যু হলে স্বজনরা পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফনের প্রস্তুতি নেন।

তবে দাফনের আগ মুহূর্তে কয়েকজন সন্তান এতে আপত্তি জানান। তাদের অভিযোগ, মৃত্যুর আগে জলিল পণ্ডিত তার সম্পত্তির একটি বড় অংশ ছোট স্ত্রীর মেয়ে খাদিজা আক্তারের নামে লিখে দিয়েছিলেন। এ বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের মধ্যে বিরোধ চলছিল। সেই বিরোধের জের ধরেই তারা বাবার মরদেহ দাফনে বাধা দেন।

প্রথমে পারিবারিক কবরস্থানে কবর খোঁড়া হলেও পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। পরে বাড়ির উঠানে কবর খোঁড়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু সেখানেও শুরু হয় নতুন করে আপত্তি। একপর্যায়ে মরদেহ সামনে রেখেই ভাই-বোনদের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

পরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তি ও এলাকাবাসীর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। বিরোধের অবসান হলে বাড়ির উঠানেই সংক্ষিপ্ত জানাজা শেষে জলিল পণ্ডিতের মরদেহ দাফন করা হয়।

ঘটনার খবর পেয়ে শশীভূষণ থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। শেষ পর্যন্ত বাবার জন্য মিলেছে কবরের জায়গা। তবে সম্পত্তির বিরোধকে কেন্দ্র করে মৃত্যুর পর এমন বিব্রতকর ও বেদনাদায়ক বিদায় এলাকার মানুষের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।