বিছানায় মুক্তিপণের চিঠি, ময়লার ভাগাড়ে মিলল শিশুর বস্তাবন্দি মরদেহ


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুন ১৮, ২০২৬, ১২:৩২ অপরাহ্ণ
বিছানায় মুক্তিপণের চিঠি, ময়লার ভাগাড়ে মিলল শিশুর বস্তাবন্দি মরদেহ

চট্টগ্রামের পটিয়ায় অপহরণের দুই দিন পর পাঁচ বছর বয়সী শিশু মো. জায়হানের বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ভোরে পটিয়া পৌরসভার গোবিন্দার খীল এলাকার পূর্বপাড়া গ্রামে শিশুটির বাড়ির পাশের ময়লার ভাগাড় থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

নিহত জায়হান ওই এলাকার গ্যারেজ ব্যবসায়ী শাহজাহানের একমাত্র সন্তান। সে স্থানীয় একটি নূরানী মাদ্রাসার ছাত্র ছিল। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ প্রতিবেশীকে আটক করেছে।

আটক ব্যক্তিরা হলেন—মো. সাইফুল, শাহানুর, নিহা, নিহান ও ওয়াসিফা। পুলিশ জানিয়েছে, তারা একই পরিবারের সদস্য। তাদের বসতঘরের পেছনের অংশ থেকেই নিখোঁজ শিশুর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত ১৬ জুন দুপুর ১২টার দিকে বাড়ির সামনে রাস্তায় খেলার সময় নিখোঁজ হয় জায়হান। দীর্ঘ সময় খোঁজাখুঁজির পরও তার সন্ধান না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা প্রথমে ধারণা করেন, শিশুটি হয়তো বাড়ির সামনের পুকুরে পড়ে গেছে। পরে এলাকাবাসীর সহায়তায় পুকুরে তল্লাশি চালানো হলেও কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

এরপর শিশুটির পরিবার পটিয়া থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি (জিডি) করে। ঘটনার দিন বিকেল ৩টার দিকে শিশুটির বাবা শাহজাহানের শোবার ঘরের বিছানায় একটি হাতে লেখা চিঠি পাওয়া যায়।

চিঠিতে শিশুকে অপহরণের কথা উল্লেখ করে মুক্তিপণ দাবি করা হয়। সেখানে দ্রুত টাকা ও একটি মোবাইল ফোন নির্দিষ্ট স্থানে রেখে আসার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে চিঠিটি আলামত হিসেবে সংগ্রহ করে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত শুরু করে।

স্বজনদের অভিযোগ, টাকার লোভে প্রতিবেশীরাই পরিকল্পিতভাবে শিশুটিকে অপহরণ করেছিল। পরে বিষয়টি প্রকাশ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় তাকে হত্যা করে মরদেহ বস্তায় ভরে ময়লার ভাগাড়ে ফেলে দেওয়া হয়। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে পুলিশ তদন্ত করছে।

সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী জানান, ভোরে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হচ্ছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে এবং পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।