
চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় সমাজের বাসিন্দা নন—এমন অজুহাতে এক বীর মুক্তিযোদ্ধার মেয়ের মরদেহ সামাজিক কবরস্থানে দাফনে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দা ও স্বজনদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
রোববার (১৫ জুন) বিকেলে উপজেলার বৈরাগ ইউনিয়নের ফকিরখীল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকালে মারা যান হিজবুল্লাহ্ বাহার (৪৮)। তিনি ওই এলাকার বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রয়াত সৈয়দুল হকের কন্যা। মৃত্যুর পর তার মরদেহ গ্রামের বাড়িতে আনা হলে বাবার বাড়ির সামাজিক পুরোনো কবরস্থানে দাফনের প্রস্তুতি নেন স্বজনরা। এ সময় স্থানীয় সমাজ পরিচালনা কমিটির কয়েকজন নেতা কবর খননে বাধা দেন এবং সেখানে দাফনের অনুমতি দিতে অস্বীকৃতি জানান।
নিহতের ছোট ভাই মো. মুজিবুর রহমান অভিযোগ করেন, ১৯৯৬ সালে তার বোনের বিয়ে হয় চট্টগ্রাম বন্দরের বাসিন্দা আবদুর রশিদের সঙ্গে। তাদের এক ছেলে ও তিন মেয়ে রয়েছে। স্বামীর মৃত্যুর পর সন্তানদের লেখাপড়া ও জীবিকার প্রয়োজনে তিনি শহরে বসবাস শুরু করেন। তবে পারিবারিক ও সামাজিকভাবে তাদের গ্রামের সঙ্গে সম্পর্ক অটুট ছিল।
তিনি আরও বলেন, ‘বোনের মৃত্যুর পর আমরা পারিবারিক কবরস্থানে দাফনের উদ্যোগ নিলে সমাজের সভাপতি জামশেদ উদ্দিনসহ কয়েকজন বাধা দেন। তারা জানান, অন্য এলাকার বাসিন্দা হওয়ায় এখানে দাফন করা যাবে না। পরে বাধ্য হয়ে চাচাতো ভাইয়ের নিজস্ব জমিতে কবর দিয়ে বোনকে দাফন করতে হয়েছে।’
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ফকিরখীল এয়ার আলী খান সমাজকল্যাণ সমিতির সভাপতি জামশেদ উদ্দিন বলেন, ‘আমাদের সমাজের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী বহিরাগত কাউকে সামাজিক কবরস্থানে দাফনের সুযোগ নেই। সেই নিয়মের কথাই বলা হয়েছিল। বিষয়টি অযথা ভিন্ন খাতে নেওয়া হচ্ছে।’
আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জুনায়েত চৌধুরী জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে অন্য একটি স্থানে মরদেহ দাফন করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আপনার মতামত লিখুন :