
কুমিল্লার দাউদকান্দিতে এক নারীকে ধর্ষণ এবং জোর করে ভ্রূণ নষ্ট করার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতা জিসান প্রধানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বর্তমানে তিনি পুলিশি হেফাজতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
শনিবার (১৩ জুন) দুপুরে কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান জানান, ভুক্তভোগী নারীর দায়ের করা মামলায় জিসান প্রধানকে আসামি করা হয়েছে এবং তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তিনি বর্তমানে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ পুলিশি হেফাজতে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এর আগে শুক্রবার (১২ জুন) রাতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে কুমিল্লা জেলা পুলিশ জানায়, দাউদকান্দি থেকে জিসান প্রধান অপহৃত হননি। বরং এক নারীর করা ধর্ষণের অভিযোগ এবং বিয়ের চাপ এড়াতে তিনি স্বেচ্ছায় আত্মগোপনে ছিলেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাত ১০টার দিকে কুমিল্লার লাকসাম রেলওয়ে জংশন এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের পর জিসান দাবি করেছিলেন, তাকে একটি গাড়িতে তুলে অপহরণ করা হয়েছিল। তবে তদন্তে সেই দাবির সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ২০ মে জিসান প্রধান দাউদকান্দির একটি ভাড়া বাসায় নিয়ে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক নারীকে ধর্ষণ করেন। পরবর্তীতে ওই নারী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে তার গর্ভপাত করানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে ওই নারী বিয়ের জন্য চাপ দিলে জিসান প্রথমে সম্মতি দিলেও শেষ পর্যন্ত বিয়ে এড়াতে আত্মগোপনে যান। ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে তার চাচাতো ভাইয়ের মাধ্যমে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) করা হয়েছিল বলে দাবি পুলিশের।
এ ঘটনায় শুক্রবার রাতে ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে দাউদকান্দি মডেল থানা-য় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। মামলায় ধর্ষণ, ধর্ষণে সহায়তা এবং ভ্রূণ নষ্ট করার অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলায় জিসান প্রধানকে প্রধান আসামি করা হয়েছে এবং মোট চারজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। ২৮ বছর বয়সী জিসান প্রধান ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক এবং সংগঠনটির কুমিল্লা জেলা পশ্চিম শাখার সাবেক সভাপতি।
এদিকে, এস এম ফরহাদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে জানিয়েছেন, অভিযোগের প্রেক্ষিতে জিসান প্রধানকে ছাত্রশিবির থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
আপনার মতামত লিখুন :