ভারী বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে ৩ নদীর পানি বিপদসীমার ওপরে


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুন ১৩, ২০২৬, ৪:৩৯ অপরাহ্ণ
ভারী বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে ৩ নদীর পানি বিপদসীমার ওপরে

শেরপুরে টানা ভারী বৃষ্টিপাত এবং ভারতের মেঘালয় থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে জেলার নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এরই মধ্যে জেলার তিনটি নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

শনিবার (১৩ জুন) সকাল ৯টায় শেরপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, চেল্লাখালি নদীর পানি বিপৎসীমার ৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। একই সঙ্গে সোমেশ্বরী ও মহারশি নদীর পানিও বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। ফলে নদী তীরবর্তী এলাকার মানুষকে সতর্ক অবস্থায় থাকতে বলা হয়েছে।

অন্যদিকে ভোগাই নদীর পানি এখনও বিপৎসীমার নিচে থাকলেও তা দ্রুত বাড়ছে। নাকুগাঁও পয়েন্টে নদীটির পানি বিপৎসীমার ৩৩৮ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে এবং নালিতাবাড়ী পয়েন্টে ৩২৮ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে অব্যাহত বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢল অব্যাহত থাকলে নদীটির পানিও আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে পাহাড়ি ঢলের পানি বৃদ্ধি পেয়ে ঝিনাইগাতী সদর বাজারে ঢুকেছে। স্থানীয়দের দাবি, পানি ক্রমাগত বাড়ছে এবং বেশ কিছু নিম্নাঞ্চল ইতোমধ্যে জলাবদ্ধতার কবলে পড়েছে। গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিপাতের কারণে জেলার বিভিন্ন এলাকায় পাহাড়ি ঢলের প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। দুই দিন আগে নালিতাবাড়ী উপজেলায় পাহাড়ি ঢলের পানিতে বর্ডার রোডসহ একাধিক সড়ক তলিয়ে যায়, ফলে স্থানীয় যোগাযোগ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটে।

গত ২৪ ঘণ্টায় জেলার বিভিন্ন স্থানে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে নাকুগাঁও পয়েন্টে সর্বোচ্চ ১৮০ মিলিমিটার, নালিতাবাড়ী পয়েন্টে ৩৫ মিলিমিটার এবং শেরপুর পয়েন্টে ৩০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। এছাড়া মহারশি নদীর বিভিন্ন স্থানে পানি বাঁধ ছুঁইছুঁই অবস্থায় রয়েছে। কোথাও কোথাও বাঁধের পাশের মাটি সরে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে, যা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

শেরপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুদীপ্ত চৌধুরী বলেন, “বৃষ্টিপাত কমে গেলে ঢলের পানি দ্রুত নেমে যাবে। এখন পর্যন্ত বাঁধ ভাঙার কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে নদীগুলোর পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি বা ওপরে থাকায় আমরা সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। কোনো সমস্যা দেখা দিলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”