জামায়াত নেতার ছেলের ছুরিকাঘাতে বিএনপিকর্মীর মৃত্যু


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুন ৩, ২০২৬, ১২:৫২ অপরাহ্ণ
জামায়াত নেতার ছেলের ছুরিকাঘাতে বিএনপিকর্মীর মৃত্যু

ময়মনসিংহে ছুরিকাঘাতে রানা মিয়া (২৮) নামে এক বিএনপি কর্মী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। মঙ্গলবার (২ জুন) বিকেল ৫টার দিকে নগরীর চর ঈশ্বরদিয়া মধ্যপাড়া এলাকার গাঙ্গের বাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত রানা মিয়া পেশায় অটোরিকশাচালক ছিলেন এবং তিনি ওই এলাকার মৃত শরাফ উদ্দিনের ছেলে। ঘটনার পর গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

পুলিশ ও স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, সোমবার (১ জুন) একটি বাগবিতণ্ডার জের ধরে মঙ্গলবার বিকেলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে দেশীয় অস্ত্র ও ছুরিসহ হামলা চালানো হলে রানা মিয়া গুরুতর আহত হন। তাকে উদ্ধার করতে গিয়ে আরও কয়েকজন আহত হন।

নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, ঘটনার সঙ্গে স্থানীয় একটি রাজনৈতিক পরিবারের বিরোধ জড়িত। তাদের দাবি, গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার কারণে দীর্ঘদিন ধরে তাদের সঙ্গে বিরোধ চলছিল। সেই বিরোধের জেরেই হামলার ঘটনা ঘটে।

অভিযোগ অনুযায়ী, জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় নেতা মফিদুল ইসলাম মাস্টারের ছেলে মাহিনসহ ৫০ থেকে ৬০ জনের একটি দল হামলায় অংশ নেয়। হামলার সময় মাহিন ছুরিকাঘাত করলে রানা মিয়ার মৃত্যু হয় বলে দাবি করেন স্বজনরা।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্তের পরিবার। মফিদুল ইসলাম মাস্টার বলেন, ঘটনার সময় তিনি বা তার ছেলে মাহিন কেউই ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না। তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ ও অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি। এ বিষয়ে ময়মনসিংহ মহানগর জামায়াতের পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে, ঘটনাটি রাজনৈতিক নয় বরং পারিবারিক বা গোষ্ঠীগত বিরোধের জেরেই সংঘটিত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

অন্যদিকে নিহত রানা মিয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে। ময়মনসিংহ-৪ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ বলেন, নিহত রানা তার নির্বাচনী প্রচারণায় কাজ করেছিলেন। তিনি ঘটনাটিকে দুঃখজনক উল্লেখ করে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, ঘটনাটির কারণ রাজনৈতিক নাকি অন্য কিছু, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং জড়িতদের শনাক্তে অভিযান চলছে। তিনি আরও জানান, বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ঘটনায় নতুন করে উত্তেজনা এড়াতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।