খানজাহান আলী মাজারের দিঘি থেকে কুমির সরানোর সিদ্ধান্ত


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুন ৩, ২০২৬, ১২:৪৪ অপরাহ্ণ
খানজাহান আলী মাজারের দিঘি থেকে কুমির সরানোর সিদ্ধান্ত

বাগেরহাটের ঐতিহাসিক হজরত খানজাহান আলী (রহ.) মাজার সংলগ্ন দিঘিতে থাকা কুমিরটিকে জননিরাপত্তার স্বার্থে নিরাপদ স্থানে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা প্রশাসন। বন বিভাগের সহায়তায় কুমিরটিকে সুন্দরবনের করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রে নেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২ জুন) রাতে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এক জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় জেলা প্রশাসন, বন বিভাগ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, মাজার কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সভা শেষে বাগেরহাট জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন জানান, সাম্প্রতিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দা ও দর্শনার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। মানুষের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দিঘিতে থাকা কুমিরটিকে সরিয়ে নিরাপদ স্থানে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, বন বিভাগের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে কুমিরটিকে ধরার ও স্থানান্তরের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুরো প্রক্রিয়াটি বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন করা হবে যাতে প্রাণীটির কোনো ক্ষতি না হয় এবং জননিরাপত্তাও নিশ্চিত করা যায়।

বাগেরহাট পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা রেজাউল করিম চৌধুরী জানান, কুমিরটি স্থানান্তরের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে বুধবার খুলনা থেকে বিশেষজ্ঞদের একটি দল বাগেরহাটে আসবে। তারা প্রথমে কুমিরটির অবস্থান, আচরণ এবং পরিবেশগত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবেন। তিনি আরও বলেন, বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে কুমিরটিকে ধরার উপযুক্ত কৌশল, স্থানান্তরের সময়সূচি এবং প্রয়োজনীয় কারিগরি বিষয় নির্ধারণ করা হবে। এরপর নিরাপদ উপায়ে কুমিরটিকে করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হবে।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি মাজারসংলগ্ন দিঘিতে গোসল করতে নেমে ফাতেমা আক্তার নামে এক শিশু কুমিরের হামলার শিকার হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং দিঘিতে থাকা কুমির নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দেয়।

এরপর স্থানীয় বাসিন্দা, দর্শনার্থী ও বিভিন্ন মহল থেকে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি ওঠে। সেই প্রেক্ষাপটেই জেলা প্রশাসন কুমিরটিকে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে একদিকে মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে, অন্যদিকে কুমিরটিও উপযুক্ত পরিবেশে সংরক্ষণের সুযোগ পাবে।