
দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলায় কয়েক দিনের টানা ভ্যাপসা গরম ও তাপপ্রবাহে জনজীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। প্রচণ্ড গরমের কারণে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া মানুষ ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন না। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন দিনমজুর, কৃষিশ্রমিক ও পরিবহনশ্রমিকরা। তীব্র তাপদাহ থেকে স্বস্তি পেতে অনেকেই আখের রস, লেবুর শরবতসহ বিভিন্ন ঠান্ডা পানীয় পান করছেন।
দুপুর ১২টার পর থেকে বিকেল পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন সড়ক প্রায় জনশূন্য হয়ে পড়ছে। একই সঙ্গে বেড়েছে দই, ঘোল, শরবত ও তালের শাঁসের চাহিদা।
উপজেলার বিনোদনগর ইউনিয়নের এক কৃষিশ্রমিক জানান, প্রচণ্ড রোদ ও গরমে মাঠে কাজ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। দীর্ঘ সময় খেতে কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না। তাপদাহের কারণে ইতোমধ্যে কয়েকজন নারী কৃষিশ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলেও তিনি জানান।
মাহমুদপুর ইউনিয়নের এক রিকশাচালক বলেন, কয়েক দিন ধরে গরমের কারণে রাস্তায় যাত্রী কমে গেছে। সকালে রিকশা নিয়ে বের হলেও পর্যাপ্ত যাত্রী পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে আয়-রোজগার কমে যাওয়ায় অনেকেই বিকেলের দিকে রিকশা নিয়ে বের হচ্ছেন।
মাইক্রোবাসচালক মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, তীব্র গরম ও তাপপ্রবাহের কারণে যাত্রীসংখ্যা কমে যাওয়ায় ভাড়াও আগের তুলনায় কম হচ্ছে।
দিনাজপুর আঞ্চলিক আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, গত তিন দিন ধরে জেলার তাপমাত্রা ৩৬ দশমিক ৮ থেকে ৩৭ দশমিক ০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছে। মঙ্গলবার (২ জুন) দুপুর ১২টায় জেলার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৭ দশমিক ০ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং বাতাসের আর্দ্রতা ৪৯ শতাংশ রেকর্ড করা হয়েছে।
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, জেলায় বর্তমানে মৃদু তাপপ্রবাহ অব্যাহত রয়েছে। তবে আগামী ৪ জুনের পর বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা থাকায় তাপমাত্রা কিছুটা কমতে পারে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত) ডা. মো. সোলাইমান হোসেন মেহেদী বলেন, গরমের কারণে সর্দি-জ্বর, গলাব্যথা, ডায়রিয়া ও হিট স্ট্রোকসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। তিনি সবাইকে অপ্রয়োজনে রোদে না যাওয়ার এবং পর্যাপ্ত পানি পান করার পরামর্শ দেন।
আপনার মতামত লিখুন :