
চট্টগ্রামের সাতকানিয়া পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডে পানি চলাচলের স্বাভাবিক পথ বন্ধ করে কৃত্রিম জলাবদ্ধতা সৃষ্টির অভিযোগে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও কৃষকরা।
রোববার (২৬ জুলাই) সকালে সাতকানিয়া উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সর্বস্তরের জনসাধারণ ও স্থানীয় কৃষকদের উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে একটি লিখিত স্মারকলিপি জমা দেন তারা।
রিয়াজউদ্দীন বাজারের ব্যবসায়ী আবুল হাশেমের সভাপতিত্বে এবং সাতকানিয়া পৌরসভা ছাত্রদলের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক তাসির উদ্দিন চৌধুরী বাপ্পির সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠনের নেতারা সংহতি প্রকাশ করেন।
এ সময় বক্তব্য দেন ৮ নম্বর ওয়ার্ড বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সভাপতি মাহবুব, সাতকানিয়া পৌরসভা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মামুন, পৌর যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নাজিম উদ্দিন, জামায়াত নেতা সেলিম খান, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ সাতকানিয়া উপজেলা শাখার সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক দাউদ মাহবুব চৌধুরী এবং ছাত্রদল নেতা আব্দুর রহিম মাহী। এছাড়া বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, যুবদল ও ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী, এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি, কৃষক ও সাধারণ মানুষ কর্মসূচিতে অংশ নেন।
স্মারকলিপিতে এলাকাবাসী অভিযোগ করেন, ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বিলে মাছ চাষের উদ্দেশ্যে কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি কৃত্রিমভাবে পানি আটকে রাখায় স্বাভাবিক নিষ্কাশন ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ব্যাহত হয়েছে। হাজী বেলায়েত আলী সড়কের দুটি সেতু, উপজেলা মোড়ের দক্ষিণে দারোগা ব্রিজ, শাম চৌধুরীর বাড়ির কবরস্থানের পূর্ব পাশের ব্রিজ এবং বিভিন্ন কালভার্টের ওপর ও নিচে বাঁধ দেওয়ায় পানি চলাচল বন্ধ হয়ে পড়েছে।
এর ফলে কৃষিজমিতে চাষাবাদ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে এবং কৃষকরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন বলে দাবি করেন তারা। সামান্য বৃষ্টিতেই বিলসংলগ্ন বসতবাড়িতে পানি ঢুকে পড়ছে এবং দীর্ঘদিন জলাবদ্ধতা থাকায় এলাকার সড়কগুলোও চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে একাধিকবার আলোচনা করেও কোনো সমাধান হয়নি। বরং প্রতিবাদকারীদের ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগও তোলা হয়। এলাকাবাসী অবিলম্বে ঘটনাটি তদন্ত করে অবৈধ বাঁধ অপসারণ, স্বাভাবিক পানি নিষ্কাশন নিশ্চিত করা এবং জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খোন্দকার মাহমুদুল হাসান বলেন, লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করে জনদুর্ভোগ ও কৃষিজমির ক্ষতি করা আইনগতভাবে অপরাধ। তিনি সংশ্লিষ্টদের স্বেচ্ছায় অবৈধ বাঁধ ও প্রতিবন্ধকতা অপসারণের আহ্বান জানিয়ে বলেন, অন্যথায় প্রশাসন আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে পানি চলাচলের পথ উন্মুক্ত করবে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে বলেও তিনি জানান।
আপনার মতামত লিখুন :