
বর্ষা এলেই বাজারে সহজলভ্য হয়ে ওঠে পাটশাক। অনেকের কাছে এটি একটি সাধারণ মৌসুমি শাক হলেও পুষ্টিবিদদের মতে, ভিটামিন ও খনিজসমৃদ্ধ এই দেশীয় শাক শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী। ভিটামিন এ, বি৬, বি৯, সি, ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেশিয়ামসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানে সমৃদ্ধ পাটশাক নিয়মিত খেলে চোখ, হাড়, দাঁত, ত্বক এবং রোগ প্রতিরোধক্ষমতা ভালো রাখতে সহায়তা করতে পারে।
১. চোখের সুস্থতা বজায় রাখতে সহায়ক
পাটশাকে থাকা ভিটামিন বি৬ ও ফোলেট চোখের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব পুষ্টি উপাদান রাতকানা রোগের ঝুঁকি কমাতেও সহায়ক হতে পারে। প্রতি ১০০ গ্রাম পাটশাকে থাকা ভিটামিন বি৬ একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দৈনিক চাহিদার উল্লেখযোগ্য অংশ পূরণ করে।
২. রোগ প্রতিরোধক্ষমতা শক্তিশালী করে
ভিটামিন সি-এর ভালো উৎস হওয়ায় পাটশাক শরীরের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। বিশেষ করে বর্ষাকালে সর্দি-কাশি, ভাইরাসজনিত সংক্রমণ ও মৌসুমি বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি কমাতেও এটি সহায়ক হতে পারে।
৩. কিছু ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে
পাটশাকে থাকা ভিটামিন বি৯ বা ফোলেট নতুন কোষ তৈরিতে এবং ক্ষতিগ্রস্ত কোষ মেরামতে সহায়তা করে। বিভিন্ন গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, পর্যাপ্ত ফোলেট গ্রহণ জরায়ুমুখ, কোলন ও ফুসফুসসহ কিছু ধরনের ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে।
৪. দাঁত ও মাড়ি সুস্থ রাখতে সাহায্য করে
ক্যালসিয়ামসমৃদ্ধ পাটশাক দাঁত ও মাড়ির স্বাস্থ্য ভালো রাখতে কার্যকর। নিয়মিত খাদ্যতালিকায় এটি থাকলে দাঁতের ক্ষয় এবং মাড়ির বিভিন্ন সমস্যার ঝুঁকি কিছুটা কমতে পারে।
৫. হাড়ের শক্তি বৃদ্ধি করে
পাটশাকে থাকা ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেশিয়াম হাড় মজবুত রাখতে একসঙ্গে কাজ করে। শরীরে এই দুই খনিজের সঠিক ভারসাম্য বজায় থাকলে হাড় ক্ষয় বা অস্টিওপোরোসিসের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে।
৬. ত্বক ও চুলের যত্নে উপকারী
পাটশাকে থাকা ভিটামিন বি২ শরীরে কোলাজেনের স্বাভাবিক উৎপাদন বজায় রাখতে সাহায্য করে। কোলাজেন ত্বকের স্থিতিস্থাপকতা ধরে রাখা, বলিরেখা কমানো এবং চুল সুস্থ ও মজবুত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, পাটশাক স্বাদে কিছুটা তিতকুটে হলেও এর পুষ্টিগুণ অত্যন্ত সমৃদ্ধ। তাই বর্ষাকালে সুষম খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে নিয়মিত পাটশাক খেলে শরীর প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজের চাহিদা পূরণ হওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন স্বাস্থ্য উপকারও পাওয়া যেতে পারে। তবে এটি কোনো রোগের একক চিকিৎসা নয়; সুস্থ থাকতে সুষম খাদ্য ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
আপনার মতামত লিখুন :