
নওগাঁ জেলায় চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে মাদকবিরোধী ধারাবাহিক অভিযানে প্রায় দুই কোটি টাকার বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য উদ্ধার করেছে জেলা পুলিশ। একই সময়ে মাদক-সংশ্লিষ্ট অভিযোগে ৭৩৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নিয়মিত মামলা ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
জেলা পুলিশ জানায়, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের সার্বিক তত্ত্বাবধানে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) এবং জেলার ১১টি থানার পুলিশ সদস্যরা জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত এসব অভিযান পরিচালনা করেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই পুলিশ সুপার মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করে জেলার বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান জোরদার করেন।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ছয় মাসে উদ্ধার হওয়া মাদকের মধ্যে রয়েছে ৪৮৬ গ্রাম হেরোইন, ৬২৮ বোতল ফেন্সিডিল, ৪ হাজার ২৩৯ পিস ইয়াবা, ২২৩ কেজি ১৯ গ্রাম গাঁজা, ১৯ কেজি গাঁজা গাছ, ১ হাজার ১৬ পিস অ্যাম্পুল ইনজেকশন, ৮ হাজার ৭৮ লিটার চোলাই মদ, ৩ হাজার ২৯৬ লিটার মদ তৈরির উপকরণ, ৪ লিটার বিদেশি মদ এবং ১৯ হাজার ৬৪৪ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট। উদ্ধারকৃত মাদকের আনুমানিক বাজারমূল্য ২ কোটি ৫ লাখ ৩৯ হাজার ৮৪০ টাকা।
এ সময় ৩৯৪টি মাদক মামলায় এজাহারভুক্ত ৬০৮ আসামির মধ্যে ৫২৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়া ১৭২টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে আরও ২০৭ জনকে আটক করে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা ও জরিমানা করা হয়েছে।
আত্রাই থানার অফিসার ইনচার্জ মাহবুব আলম বলেন, পুলিশ সুপারের নির্দেশনা অনুযায়ী মাদকের সঙ্গে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হচ্ছে না। উপজেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার পাশাপাশি মাদক নিয়ন্ত্রণেও নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
নওগাঁ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ আসাদুজ্জামান বলেন, বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে মাদক উদ্ধার এবং কারবারিদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যান্য অপরাধ দমনের পাশাপাশি মাদক নির্মূলে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অফিসার ইনচার্জ হাসিবুল্লাহ হাবিব বলেন, বিভিন্ন ধরনের অপরাধ দমনের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি মাদক নিয়ন্ত্রণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার এবং একাধিক মাদক ব্যবসায়ীকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে।
নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, জেলাকে মাদকমুক্ত ও নিরাপদ জনপদ হিসেবে গড়ে তুলতে জেলা পুলিশ নিয়মিত ও কঠোর অভিযান পরিচালনা করছে। পাশাপাশি মাদক ব্যবসায়ীরা যাতে পুনরায় সক্রিয় হতে না পারে, সে লক্ষ্যে অভিযান অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে যুবসমাজকে মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে সচেতন করতে বিভিন্ন সচেতনতামূলক সভা ও মতবিনিময় কর্মসূচিও পরিচালনা করা হচ্ছে।
আপনার মতামত লিখুন :