স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যায় বিপর্যস্ত বাঁশখালী, পানিবন্দি লাখো মানুষ


বাঁশখালী প্রতিনিধি, মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম প্রকাশের সময় : জুলাই ৯, ২০২৬, ৪:৫৯ অপরাহ্ণ
স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যায় বিপর্যস্ত বাঁশখালী, পানিবন্দি লাখো মানুষ

পাঁচ দিনের টানা ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও সমুদ্রের জোয়ারের প্রভাবে চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় স্মরণকালের অন্যতম ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। পৌরসভাসহ উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়ে লাখো মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। এতে জনজীবন কার্যত স্থবির হয়ে গেছে।

অবিরাম বৃষ্টিতে অসংখ্য বসতবাড়িতে পানি ঢুকে পড়েছে। সড়ক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বাজার ও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। একই সঙ্গে কৃষিজমি, মাছের ঘের ও মৎস্য খাতে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উপকূলীয় খানখানাবাদ, বাহারছড়া, কাথারিয়া, গণ্ডামারা, সরল, শেখেরখীল ও ছনুয়া ইউনিয়ন। এসব এলাকায় বাড়িঘর, রাস্তাঘাট ও কৃষিজমি পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় বাসিন্দারা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

এদিকে চট্টগ্রাম–বাঁশখালী প্রধান সড়কের বিভিন্ন অংশ প্লাবিত হওয়ায় উপজেলা সদর ও চট্টগ্রাম শহরের মধ্যে সড়ক যোগাযোগ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।

দুর্গত এলাকায় খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও জরুরি সহায়তার সংকট দেখা দিয়েছে। অনেক পরিবার নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে হিমশিম খাচ্ছে। একটানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের পানিতে গ্রামের অধিকাংশ বাড়িতে পানি ঢুকে পড়েছে। কেউ ঘরের চালায়, আবার কেউ উঁচু স্থানে আশ্রয় নিয়ে রাত কাটাচ্ছেন। মাটির তৈরি ও জরাজীর্ণ অনেক ঘর ইতোমধ্যে ধসে পড়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, অনেক মানুষ গতকাল থেকে পর্যাপ্ত খাবার পাননি। অধিকাংশ দোকানপাটেও পানি ঢুকে পড়ায় খাদ্যসামগ্রীর সংকট তৈরি হয়েছে। শ্রমজীবী বহু পরিবারের হাঁস-মুরগি ভেসে গেছে এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় আসবাবপত্র ও গৃহস্থালির সামগ্রী নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

পরিস্থিতির অবনতির পর উপজেলা প্রশাসন নিম্নাঞ্চল ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের দ্রুত আশ্রয়কেন্দ্রে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি জনপ্রতিনিধিদের মসজিদে মাইকিংসহ প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রুহুল আমীন বলেন, সরকারি ত্রাণসামগ্রী পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে তা দ্রুত দুর্গত মানুষের মধ্যে বিতরণ করা হবে। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ ও বন্যাকবলিত এলাকাগুলো সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।