
পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলায় এক রাতেই পৃথক তিনটি বাড়িতে সংঘবদ্ধ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। বুধবার দিবাগত রাত ১টা ২০ মিনিট থেকে ভোর ৪টা পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে এসব ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এ সময় ডাকাতরা নগদ টাকা, স্বর্ণালংকারসহ প্রায় ২৩ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
ঘটনার খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকালে নেছারাবাদ-কাউখালী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) প্রণয় রায় ও নেছারাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মেহেদী হাসান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রথম ডাকাতির ঘটনা ঘটে স্বরূপকাঠি ইউনিয়নের অলংকারকাঠি এলাকায়। রাত আনুমানিক ১টা ২০ মিনিটের দিকে সংঘবদ্ধ ডাকাত দল একটি বাড়ির পেছনের দরজা ভেঙে প্রবেশ করে। এ সময় পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে ডাকাতরা ঘরে তল্লাশি চালায়। তাদের হাতে রামদা, শাবল, বড় রেঞ্জ ও অন্যান্য দেশীয় সরঞ্জাম ছিল বলে জানা গেছে। প্রায় ৪০ মিনিট অবস্থান করে তারা নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকারসহ প্রায় ১০ লাখ টাকার মালামাল নিয়ে পালিয়ে যায়।
এরপর রাত আড়াইটার দিকে একই ডাকাত দল অলংকারকাঠি গ্রামের মোহাম্মদ তৌকির আহমেদ লিটু কাজীর টিনশেড বাড়িতে হানা দেয়। সামনের লোহার দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে তারা চার আনা ওজনের একটি স্বর্ণের আংটি, দুটি রুপার চেইন, দুটি নূপুর এবং নগদ ১৫ হাজার টাকা নিয়ে যায় বলে পরিবারের সদস্যরা জানান।
সর্বশেষ রাত সাড়ে ৩টার দিকে স্বরূপকাঠি পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মো. আব্দুস সালামের বাড়িতে ডাকাতি হয়। ডাকাতরা সামনের কাঠের দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে তার স্ত্রী ও দুই মেয়েকে একটি কক্ষে আটকে রাখে। পরে তারা নগদ এক লাখ টাকা এবং সাড়ে তিন ভরি স্বর্ণালংকার লুট করে ভোরের দিকে পালিয়ে যায়।
ভুক্তভোগী পরিবারগুলো হলো—স্বরূপকাঠি পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মো. আব্দুস সালাম, অলংকারকাঠি গ্রামের মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম তপু কাজী এবং মোহাম্মদ তৌকির আহমেদ লিটু কাজীর পরিবার।
একই রাতে পরপর তিনটি বাড়িতে ডাকাতির ঘটনায় অলংকারকাঠিসহ আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এ ধরনের ঘটনায় তারা নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন। দ্রুত ডাকাতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং এলাকায় পুলিশি টহল বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তারা।
নেছারাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মেহেদী হাসান বলেন, খবর পাওয়ার পরপরই অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। ডাকাতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
আপনার মতামত লিখুন :