নতুন পে-স্কেলে বেতন বৃদ্ধির নিয়মে আসছে বড় পরিবর্তন!


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুলাই ৮, ২০২৬, ৫:৫৩ অপরাহ্ণ
নতুন পে-স্কেলে বেতন বৃদ্ধির নিয়মে আসছে বড় পরিবর্তন!

সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বৃদ্ধির প্রচলিত ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। নবম জাতীয় বেতনকাঠামোতে শুধু গ্রেডের ভিত্তিতে নয়, বরং আয়, জীবনযাত্রার ব্যয়, মূল্যস্ফীতি এবং বিভিন্ন স্তরের চাকরিজীবীদের বাস্তব প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে বার্ষিক বেতন বৃদ্ধির হার নির্ধারণের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে সব গ্রেডে প্রায় একই হারে বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট দেওয়ার প্রচলিত পদ্ধতি থেকে সরে আসছে সরকার। নতুন কাঠামো কার্যকর হলে নিম্ন ও মধ্যম গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তুলনামূলক বেশি সুবিধা পাবেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

এদিকে নবম জাতীয় পে স্কেলের প্রস্তাব দ্রুত মন্ত্রিসভার অনুমোদনের জন্য পাঠানোর কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে প্রস্তাবটি মন্ত্রিসভায় উপস্থাপনের জন্য অর্থ বিভাগকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী সরকারি চাকরিজীবীদের সব গ্রেডে গড়ে ৫ শতাংশ হারে বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট দেওয়া হয়। তবে নতুন খসড়া অনুযায়ী, ষষ্ঠ থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত ৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট বহাল রাখার প্রস্তাব রয়েছে। পঞ্চম গ্রেডে ৪ শতাংশ, তৃতীয় ও চতুর্থ গ্রেডে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ এবং দ্বিতীয় গ্রেডে ২ দশমিক ৭৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্টের সুপারিশ করা হয়েছে। প্রথম গ্রেডের বার্ষিক বেতন বৃদ্ধির হার আলাদাভাবে নির্ধারণ করা হবে।

জানা গেছে, এ পরিবর্তনের পেছনে সরকারের পরিচালিত একটি বৃহৎ জরিপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। জরিপে অংশ নেন ১ লাখ ৬৭ হাজার ৫০০ সরকারি চাকরিজীবী, ৬১ হাজার ৫০০ সাধারণ নাগরিক এবং ৩ হাজার ৫১৩টি প্রতিষ্ঠানের প্রধান। এতে মাত্র ৫ দশমিক ৬ শতাংশ অংশগ্রহণকারী বিদ্যমান ইনক্রিমেন্ট ব্যবস্থার পক্ষে মত দেন। অন্যদিকে ৫০ দশমিক ৪৩ শতাংশ মূল্যস্ফীতির সঙ্গে বেতন বৃদ্ধি সমন্বয়ের পক্ষে এবং ৩১ দশমিক ৫৪ শতাংশ জীবনযাত্রার ব্যয়কে ভিত্তি করে ইনক্রিমেন্ট নির্ধারণের সুপারিশ করেন। এছাড়া ৭৯ দশমিক ৫ শতাংশ অংশগ্রহণকারী ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন আরও বাড়ানোর পক্ষে মত দেন।

গত সোমবার মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে নবম বেতন কমিশনের সুপারিশ দ্রুত মন্ত্রিসভার অনুমোদনের জন্য পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়। অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, বিচার বিভাগসংক্রান্ত কিছু কারিগরি বিষয় নিষ্পত্তির পর অর্থমন্ত্রীর সম্মতি নিয়ে প্রস্তাবটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিসভায় পাঠানো হবে।

নতুন বেতনকাঠামো প্রণয়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ‘লিভিং স্ট্যান্ডার্ড সার্ভে-২০২৫’-এর তথ্যও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। ওই জরিপ অনুযায়ী, দেশে একটি পরিবারের গড় মাসিক ব্যয় ৩৫ হাজার ৩১১ টাকা। সিটি করপোরেশন এলাকায় এ ব্যয় ৪৬ হাজার ৭৭৮ টাকা এবং ছয় সদস্যের একটি পরিবারের মাসিক ব্যয় প্রায় ৬৬ হাজার ২৫৩ টাকা।

বেতন কমিশন প্রথম গ্রেডের মূল বেতন ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা এবং ২০তম গ্রেডের মূল বেতন ২০ হাজার টাকা নির্ধারণের সুপারিশ করেছে। তবে এ বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত সচিব কমিটি প্রথম গ্রেডের মূল বেতন দেড় লাখ টাকা নির্ধারণের বিষয়টি বিবেচনা করছে। একই সঙ্গে সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন বেতনের অনুপাত ১:৮-এর পরিবর্তে ১:৭.৫ করার প্রস্তাবও রয়েছে, যেখানে বর্তমানে এ অনুপাত ১:৯.৪।

বর্তমানে ২০তম গ্রেডের একজন কর্মচারী বেতন-ভাতা মিলিয়ে ১৬ হাজার ৯৫০ টাকা পান। নতুন কাঠামো বাস্তবায়িত হলে সেই পরিমাণ বেড়ে প্রায় ৪১ হাজার ৯০৮ টাকায় পৌঁছাতে পারে। এছাড়া ১৯তম থেকে প্রথম গ্রেড পর্যন্ত বিভিন্ন ধরনের ভাতাও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। বিশেষ করে যাতায়াত, টিফিন, ধোলাই ও ঝুঁকিভাতার ওপর নির্ভরশীল নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য ভাতা বৃদ্ধির হার তুলনামূলক বেশি রাখার চিন্তা করছে সরকার।