নিরাপদ ও বাসযোগ্য দেশ গড়ে তোলাই সরকারের অঙ্গীকার: প্রধানমন্ত্রী


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুলাই ৮, ২০২৬, ৮:৫৫ অপরাহ্ণ
নিরাপদ ও বাসযোগ্য দেশ গড়ে তোলাই সরকারের অঙ্গীকার: প্রধানমন্ত্রী

উন্নয়ন কার্যক্রমের পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণকে সমান গুরুত্ব দিয়ে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ, বাসযোগ্য ও টেকসই বাংলাদেশ গড়ে তোলাই সরকারের প্রধান অঙ্গীকার বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বুধবার (৮ জুলাই) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে বৃক্ষরোপণ অভিযান নিয়ে দেওয়া এক বার্তায় তিনি এ কথা জানান।

বার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ দর্শনকে ধারণ করে সরকার একটি সবুজ, পরিবেশবান্ধব, জলবায়ু সহনশীল ও টেকসই রাষ্ট্র গঠনে কাজ করছে। উন্নয়ন ও পরিবেশ সুরক্ষার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখেই আগামীর বাংলাদেশ নির্মাণ করা হবে।

তিনি জানান, জাতীয় ‘বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা ২০২৬’ এ লক্ষ্য অর্জনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। এবারের প্রতিপাদ্য ‘বৃক্ষরোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ সরকারের পরিবেশবান্ধব পরিকল্পনার প্রতিফলন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানবসৃষ্ট নানা কর্মকাণ্ডের কারণে বৈশ্বিক উষ্ণতা বাড়ছে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব প্রকৃতি ও মানুষের জীবনে পড়ছে। এ পরিস্থিতিতে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, কার্বন নিঃসরণ কমানো এবং তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে বৃক্ষের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি জানান, আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের একটি বড় কর্মসূচি গ্রহণ করেছে সরকার। এটি শুধু সরকারি উদ্যোগ নয়, বরং একটি জাতীয় আন্দোলনে পরিণত করার লক্ষ্য রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর বার্তায় বলা হয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সড়ক ও রেলপথের দুই পাশ, বাঁধ, সরকারি বনভূমি, উপকূলীয় চরাঞ্চল, নগর এলাকা ও বসতবাড়িসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃক্ষরোপণ ও গাছের পরিচর্যায় জনগণকে সম্পৃক্ত করা হচ্ছে। পাশাপাশি নগর বনায়নে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ এবং বিনামূল্যে চারা বিতরণের উদ্যোগও অব্যাহত রয়েছে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে দেশের বৃক্ষাচ্ছাদন বৃদ্ধি পাবে, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়বে এবং টেকসই উন্নয়নের ভিত্তি আরও শক্তিশালী হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, উন্নত জীবনযাত্রার জন্য শক্তিশালী অর্থনীতি যেমন প্রয়োজন, তেমনি সুস্থভাবে বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজন জীববৈচিত্র্যসমৃদ্ধ সবুজ পরিবেশ। অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও বন সংরক্ষণ একে অপরের সঙ্গে সম্পর্কিত।

দেশকে সবুজে আচ্ছাদিত করতে বাড়ির আঙিনা, পতিত ও প্রান্তিক জমি, নদী-খালের পাড়, বাঁধ, সড়ক ও সড়কদ্বীপ, বাড়ির ছাদ এবং উপযুক্ত সব স্থানে ব্যাপক বনায়নে দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, বৃক্ষমেলা দেশের সবুজায়ন আন্দোলনকে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এ বছর জাতীয় পর্যায়ের পাশাপাশি বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বৃক্ষমেলার আয়োজন করা হবে এবং তিন মাসব্যাপী বৃক্ষরোপণ অভিযান পরিচালিত হবে।

প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, বৃক্ষমেলা থেকে দেশবাসী উন্নত জাতের চারা সংগ্রহের সুযোগ পাবেন এবং শিক্ষার্থীরা উদ্ভিদ বৈচিত্র্য সম্পর্কে বাস্তব জ্ঞান অর্জন করতে পারবে।

সবশেষে তিনি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর, নির্মল ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে অন্তত একটি করে গাছ লাগানো এবং এর যথাযথ পরিচর্যার আহ্বান জানান।

এ সময় তিনি ‘বৃক্ষরোপণে জাতীয় পুরস্কার ২০২৫’, ‘বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে জাতীয় পুরস্কার ২০২৬’ এবং সামাজিক বনায়নের লভ্যাংশ অর্জনকারীদের অভিনন্দন জানান এবং জাতীয় ‘বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা ২০২৬’-এর সফলতা কামনা করেন।