সিরিয়ায় ফরাসি প্রেসিডেন্টের হোটেলের কাছে ভয়াবহ বিস্ফোরণ


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুলাই ৭, ২০২৬, ৫:১৫ অপরাহ্ণ
সিরিয়ায় ফরাসি প্রেসিডেন্টের হোটেলের কাছে ভয়াবহ বিস্ফোরণ

সিরিয়া সফরে থাকা ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁর অবস্থানরত হোটেলের কাছেই শক্তিশালী বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। তবে এ ঘটনায় ম্যাখোঁ বা তার সফরসঙ্গীদের কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হননি। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

নিরাপত্তা সূত্রের বরাতে রয়টার্স জানায়, সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কে ম্যাখোঁ যে হোটেলে অবস্থান করছিলেন, তার কাছাকাছি এলাকায় বিস্ফোরণটি ঘটে। বিস্ফোরণের পর ঘটনাস্থল থেকে ধোঁয়া উঠতে দেখা যায় এবং নিরাপত্তা বাহিনী দ্রুত আশপাশের সড়কগুলো বন্ধ করে দিয়ে এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করে।

তবে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টের কার্যালয় এলিসি প্রাসাদ জানিয়েছে, বিস্ফোরণের কোনো শব্দ ম্যাখোঁ শুনতে পাননি। তার পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচিতে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। ঘটনার পরও তিনি সিরিয়ার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেন।

রয়টার্সের এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, বিস্ফোরণের সময় বিকট শব্দ শোনা যায় এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘটনাস্থলের আকাশে ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা যায়। তবে প্রেসিডেন্টের গাড়িবহর চলাচলের সময় কোনো বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়নি বলে জানিয়েছে এলিসি প্রাসাদ। ম্যাখোঁর সফরসঙ্গী সাংবাদিকরাও সকালে তার কর্মসূচির সময় কোনো অস্বাভাবিক পরিস্থিতি লক্ষ্য করেননি।

পরে সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানায়, প্রেসিডেন্ট ভবনে ইমানুয়েল ম্যাখোঁ ও আহমেদ আল-শারার মধ্যে নির্ধারিত বৈঠক সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ম্যাখোঁর এই সফরকে সিরিয়ার সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ২০২৪ সালে আহমেদ আল-শারার নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহীরা দীর্ঘদিনের শাসক বাশার আল-আসাদ সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত কোনো দেশের প্রথম রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে ম্যাখোঁ সিরিয়া সফর করছেন।

আহমেদ আল-শারা একসময় আল-কায়েদার সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। বর্তমানে তিনি পশ্চিমা দেশ ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা করছেন। দীর্ঘ ১৩ বছরের গৃহযুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত সিরিয়ার পুনর্গঠন এবং একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।

তবে দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখনো অস্থিতিশীল। গৃহযুদ্ধের সময় ইসলামিক স্টেটসহ বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী সেখানে সক্রিয় ছিল। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ নতুন সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।