
ইরানের পবিত্র শহর কোমের জামকারান মসজিদে দেশটির প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও তার পরিবারের সদস্যদের দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকালে অনুষ্ঠিত এই জানাজার নামাজে লাখো শোকাহত মানুষ অংশ নেন।
কোমের গ্র্যান্ড আয়াতুল্লাহ আবদুল্লাহ জাওয়াদি আমোলির ইমামতিতে জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইরানের বিপুলসংখ্যক সাধারণ মানুষ, ধর্মীয় আলেম, সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, সামরিক কমান্ডার এবং বিভিন্ন দেশের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
জানাজার পর মরদেহবাহী শোকযাত্রা জামকারান মসজিদ থেকে হজরত ফাতিমা মাসুমা (সা.)-এর মাজারের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে। এ উপলক্ষে কোম শহরে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
এর আগে সোমবার (৬ জুলাই) বিকেল থেকেই ইরানের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার মানুষ কোম শহরে আসতে শুরু করেন। মঙ্গলবার ভোরের আগেই জামকারান মসজিদের পুরো প্রাঙ্গণ ও আশপাশের সড়কগুলোতে মানুষের ঢল নামে। অনেক শোকাহত মানুষ পায়ে হেঁটে এবং অনেকে যানবাহনে করে শোকানুষ্ঠানে যোগ দেন। তাদের হাতে ইরানের জাতীয় পতাকার পাশাপাশি বিশেষ লাল পতাকাও দেখা যায়।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং তার পরিবারের কয়েকজন সদস্য নিহত হন বলে ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়। দীর্ঘ চার মাস পর গত শুক্রবার (৩ জুলাই) তেহরানের ইমাম খোমেনি মোসাল্লায় তার মরদেহ সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য রাখা হয়।
এরপর শনিবার (৪ জুলাই) ও রোববার (৫ জুলাই) সেখানে বিদায় অনুষ্ঠান ও প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। সোমবার (৬ জুলাই) তেহরানের রাজপথে লাখো মানুষের অংশগ্রহণে বড় শোকযাত্রার আয়োজন করা হয়।
ইরানের সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, খামেনির শোকানুষ্ঠান পবিত্র শহর কোমের পাশাপাশি ইরাকের নাজাফ ও কারবালায়ও অব্যাহত থাকবে। আগামী বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর মাশহাদে ইমাম রেজা (আ.)-এর পবিত্র মাজার প্রাঙ্গণে চূড়ান্ত জানাজা শেষে তার দাফন সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন :