
দেশে চলমান গ্যাস সংকটের মধ্যে নতুন করে বড় ধাক্কা এসেছে। সমুদ্রে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে কক্সবাজারের মহেশখালীতে থাকা দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) রূপান্তর ও সরবরাহ প্রায় ৩০ শতাংশ কমে গেছে। এর ফলে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের সরবরাহে বড় ধরনের ঘাটতি দেখা দিয়েছে।
বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদ করপোরেশন (পেট্রোবাংলা) সূত্র জানায়, মহেশখালীর দুটি ভাসমান টার্মিনাল থেকে প্রতিদিন ১০০ থেকে ১০৫ কোটি ঘনফুট এলএনজি সরবরাহ করা হচ্ছিল। তবে সমুদ্রের প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে সোমবার (৬ জুলাই) গভীর রাত থেকে ধাপে ধাপে প্রায় ৩০ কোটি ঘনফুট সরবরাহ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে দৈনিক প্রায় ৭৫ কোটি ঘনফুট এলএনজি সরবরাহ করা হচ্ছে।
পেট্রোবাংলার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আবহাওয়া পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত এলএনজি সরবরাহ স্বাভাবিক করার সুযোগ নেই। দেশের মোট গ্যাস সরবরাহের প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ আসে আমদানি করা এলএনজি থেকে। ফলে এক দিনেই ৩০ কোটি ঘনফুট সরবরাহ কমে যাওয়ায় সামগ্রিক গ্যাস ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এলএনজি সংকটের প্রভাব ইতোমধ্যে বিভিন্ন খাতে পড়তে শুরু করেছে। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় আবাসিক গ্রাহকদের রান্নার কাজে ভোগান্তিতে পড়তে হতে পারে। একই সঙ্গে শিল্পকারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
গ্যাসের সরবরাহ কমে যাওয়ায় গ্রাহকদের সতর্ক করেছে রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় গ্যাস সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসি।
তিতাসের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে মহেশখালীর টার্মিনালগুলো থেকে এলএনজি সরবরাহ প্রায় ৩০ কোটি ঘনফুট কমেছে। এ কারণে তিতাসের আওতাধীন সব শ্রেণির গ্রাহকের প্রান্তে গ্যাসের চাপ কম থাকতে পারে। আবহাওয়া পরিস্থিতি ও এলএনজি সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই সংকট অব্যাহত থাকার আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে গ্যাসের এই আকস্মিক ঘাটতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে দ্রুত এলএনজি সরবরাহ বাড়িয়ে সংকট কমানোর চেষ্টা করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন :