৪০ ডিগ্রি গরমেও রাজপথ ছাড়েনি ‘ককরোচ’ বিক্ষোভকারীরা, টানা আন্দোলনে উত্তপ্ত ভারত


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুলাই ২, ২০২৬, ১২:৩২ অপরাহ্ণ
৪০ ডিগ্রি গরমেও রাজপথ ছাড়েনি ‘ককরোচ’ বিক্ষোভকারীরা, টানা আন্দোলনে উত্তপ্ত ভারত

ভারতের রাজধানী দিল্লির ঐতিহাসিক জন্তর মন্তরে টানা ১০ দিন ধরে অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন শত শত শিক্ষার্থী, তরুণ পেশাজীবী ও অধিকারকর্মী। প্রচণ্ড তাপপ্রবাহের মধ্যেও ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি গরম উপেক্ষা করে তারা দিন-রাত রাস্তায় অবস্থান করছেন।

আন্দোলনকারীরা নিজেদের পরিচয় দিচ্ছেন ব্যঙ্গধর্মী অনলাইন সংগঠন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’-র সদস্য হিসেবে। তাদের দাবি, মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস কেলেঙ্কারির ঘটনায় নৈতিক দায়িত্ব নিয়ে ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ করতে হবে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই আন্দোলন প্রথমে সামাজিক মাধ্যমে ব্যঙ্গাত্মক উদ্যোগ হিসেবে শুরু হলেও পরে তা বৃহৎ ছাত্র ও তরুণদের প্রতিবাদে রূপ নেয়। বর্তমানে সংগঠনটির অনলাইন অনুসারী প্রায় ২ কোটি ২০ লাখ।

আন্দোলনে নতুন গতি আসে জলবায়ু আন্দোলনকর্মী সোনম ওয়াংচুক অনির্দিষ্টকালের অনশন শুরু করার পর। তিনি বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থায় জবাবদিহি নিশ্চিত করতেই তিনি আন্দোলনের পাশে দাঁড়িয়েছেন।

এই আন্দোলনের সূচনা হয় মে মাসে, যখন ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বেকার কিছু তরুণ কর্মীকে ‘ককরোচ’ ও ‘পরজীবী’ বলে মন্তব্য করেন। পরে তিনি ব্যাখ্যা দিলেও ওই মন্তব্য সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।

পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী অভিজিৎ দিপকের একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্ট—“সব ককরোচ যদি একসঙ্গে হয়?”—ভাইরাল হয়। পরে এআই প্রযুক্তির সহায়তায় সংগঠনের প্রতীক তৈরি হয় এবং গড়ে ওঠে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’।

প্রথমে এটি ব্যঙ্গাত্মক অনলাইন আন্দোলন হলেও ধীরে ধীরে তা বেকারত্ব, চাকরির সংকট এবং প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে সংগঠিত প্রতিবাদে পরিণত হয়। আন্দোলনকারীরা গত ৬ জুন প্রথম দিল্লিতে বিক্ষোভ শুরু করে এবং পরে বিভিন্ন শহরে কর্মসূচি শেষে আবার জন্তর মন্তরে ফিরে আসে।

আন্দোলনকারীদের প্রধান দাবি শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ হলেও তারা বলছেন, তাদের মূল লক্ষ্য শিক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা। আন্দোলনস্থলে প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় আত্মহত্যার অভিযোগে নিহত কয়েকজন শিক্ষার্থীর স্মরণে একটি দেয়ালও তৈরি করা হয়েছে, যেখানে মানুষ ফুল দিচ্ছেন ও শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন।

অন্যদিকে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং আন্দোলনকারীদের “অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিকারীদের সহযোগী” বলে মন্তব্য করেছেন। ক্ষমতাসীন দলের নেতারাও এই আন্দোলনকে রাষ্ট্রবিরোধী হিসেবে অভিহিত করেছেন। বর্তমানে আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তাদের অবস্থান কর্মসূচি চলবে।